বেগম খালেদা জিয়ার ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসী’ কর্মসুচীতে উজ্জীবিত পাহাড়ের মানুষ
মুজিবুর রহমান ভুইয়া :
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ১৮ দলীয় জোট নেতা বেগম খালেদা জিয়ার ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ ঢাকামুখী অভিযাত্রার ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ। বেগম খালেদা জিয়ার এ ঘোষনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেও মনে করেন পাহাড়ের রাজনীতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের বিএনপির নেতারা বেগম খালেদা জিয়া ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসুচীতে ‘পাহাড়ের মানুষরাও আসুন’ বলে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানোকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে বলেছেন, ঢাকা মার্চে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। আমরা তার এ সম্মানের যথাযথ মুল্য দেব। তারা বলেন, জীবনবাজি রেখে এই কর্মসূচি সফল করতে পাহাড়ের মানুষ বদ্ধপরিকর। যেখানে বাধা সেখানেই অবস্থান করবেন পাহাড়ের মানুষ এমনটাও বললেন অনেকেই।
কেন্দ্রীয় বিএনপির উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদক ম্যামাচিং মার্মা বলেন, পাহাড়ের মানুষ অনেক আগে থেকেই বিএনপিমুখী হয়েছে। শান্তিচুক্তি বা তার পরবর্তী নানা ঘটনাপ্রবাহে পাহাড়ের শান্তিকামী মানুষকে বিএনপি সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য করেছে। আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া‘র ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসী’ কর্মসুচীতে পাহাড়ের মানুষকে আলাদা করে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন রাজনীতি চর্চার শুরু হলো। পাহাড়ের মানুষকে শহীদ জিয়াউর রহমান’র পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বরাবরই মুল্যায়ন করেছেন, তার বক্তব্যের মাধ্যমে সেটা তিনি আবারো প্রমাণ করলেন। পাহাড়ের মানুষকে জাতীয় পতাকা হাতে ঢাকামুখী হওয়ার যে আহ্বান বেগম খালেদা জিয়া জানিয়েছেন, তাতে পাহাড়ে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে বলেও মনে করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির এ নেতা।
খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র আবু ইউসুফ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বিরোধীদলীয় নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া‘র এ বক্তব্যে পাহাড়ে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীর মাঝে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যে বিএনপিতে পাহাড়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে বলেও জানান জেলা বিএনপির এ নেতা। ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসী’ শুধু কোন রাজনৈতিক কর্মসুচী নয় গণতন্ত্র রক্ষায় এক নতুন অভিযাত্রা বলেও দাবী করে তিনি বলেন, সকল বাধা উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা এ কর্মসুচীতে যোগ দেব।
রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও রাঙ্গামাটি পৌরসভার মেয়র মো: সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো বলেন, যেখানে বাধা আসবে সেখানেই অবস্থান নেবে আমাদের কর্মীরা। বেগম খালেদা জিয়ার ‘পাহাড়ের মানুষকে ঢাকামুখী অভিযাত্রায় যোগদানের’ বক্তব্যকে যুগান্তকারী আখ্যায়িত করে ভুট্টো বলেন ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসী’ কর্মসুচীতে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। আমরা তার এ সম্মানের যথাযথ মুল্যায়ন দেব।
সাবেক সেনা সদস্য ও বিএনপি নেতা ললিত বিকাশ ত্রিপুরা মনে করেন, ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসী’ কর্মসুচীতে পাহাড়ের মানুষকে আমন্ত্রন জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়া পাহাড়ের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার বহির্প্রকাশ ঘটিয়েছেন। আমরা তার বক্তব্যে উজ্জীবিত ও সম্মানিত। আমরা সদলবলে জীবনবাজি রেখে এ কর্মসুচীতে যোগ দেব।
বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের পর পাহাড়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারী বিরোধী টানা আন্দোলনের মাঝে খালেদা জিয়ার এ ঘোষণায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আওয়ামী নিষ্পেষণের শিকার সাধারণ মানুষও উজ্জীবিত হয়েছে। তাদের মতে, সরকার বিরোধী দলের অতীত আন্দোলন-সংগ্রাম দমাতে পারলেও ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসী’ কর্মসুচীতে সরকার নিজেই দমে যাবে। ঢাকামুখী জন বিস্ফোরণে সরকারের ভেসে যাবার সম্ভাবনা প্রবল বলেও মনে করেন অনেকে।



















