দীঘিনালায় ইউপিডিএফ-জেএসএস বন্দুক যুদ্ধ : নিহত ১

dighinala-khagrachari-pic-300x168

উপজেলা প্রতিনিধি, দীঘিনালাঃ

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউপি’র জারুলছড়ি চঞ্চুমনি কারবারি পাড়া এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রামের অনিবন্ধিত স্বশস্ত্র প্রধান দুই আঞ্চলিক দল জেএসএস (সন্তু গ্রুপ) ও ইউপিডিএফ-এর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। রবিবার সকাল পৌনে ছয়টা থেকে শুরু হওয়া এই বন্দুকযুদ্ধ প্রায় দুই ঘন্টা স্থায়ী হয় বলে জানা গেছে। এতে উভয় দলের মধ্যে প্রায় ২,০০০ গুলি বিনিময় হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র থেকে জানা গেছে।

এই ঘটনায় রাঙ্গামাটি জেলার সুভলং এলাকার সুপন চাকমা (৩২) নামের এক ইউপিডিএফ কর্মী নিহত ও উভয়পক্ষের ১০ কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে লাশ না পাওয়ায় নিহত ও আহত হওয়ার খবর এখনও নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেনি। দীঘিনালা সেনা জোন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে দুইটি তাজা গুলি, এগারো রাউন্ড মিস ফায়ার ও ১৫৪ টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে উদ্ধারকৃত গুলির খোসা বিশ্লেষণ করে বন্দুকযুদ্ধে মর্টারশেল নিক্ষেপসহ আরও প্রায় ১০ ধরণের ভারী ও হালকা অস্ত্র ব্যাবহার এবং প্রায় ২,০০০ গুলি বিনিময় করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

 উল্লেখ্য বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চাকমা উপজাতি নিয়ন্ত্রিত এই আঞ্চলিক দল দুইটি বহু বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে যাচ্ছে। প্রায় প্রতি মাসেই কয়েকবার করে দল দুইটির মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। মূলত ১৯৯৭ সালে শান্তিবাহিনীর মূল সংগঠন সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস-এর সাথে সরকার শান্তিচুক্তি সম্পাদন করলে, শান্তিচুক্তির বিপক্ষে  জেএসএস-এরই একটি অংশ গঠন করে ইউপিডিএফ। প্রায়ই এসব গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও, জেএসএস-এর প্রধান সন্তু লারমা ও ইউপিডিএফ-এর প্রধান প্রসীত খীসা – কারও বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি একটি মামলাও দায়ের হয়নি কোথাও। এমনকি শন্তু লারমা এখনও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় আঞ্চলিক পরিষদের পদ দখল করে আছেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন