পেকুয়ায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে উত্তেজনা

fec-image

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় গত ইউপি নির্বাচনে যেসব নেতারা দলীয় প্রতীক নৌকার বিরোধীতা করেছেন তারাই উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। আগামী ২৭ মে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তারা নেতৃত্বে আসতে মরিয়া, এমনটি অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নৌকা সমর্থক ও নৌকা বিরোধীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

গত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রার্থীদের অভিযোগ, যারা নৌকার বিরোধীতা করেছেন তারাই দলকে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। কাউকে কোন কথা বলতে দিচ্ছেন না। জনা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ ২০১৬ সালে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম গত ২৮ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত পেকুয়া ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিরোধীতা করেছেন। এ নিয়ে এখনও অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ ও দ্বন্দ্ব সংঘাত লেগে আছে।
বিগত ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর পেকুয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়নের মধ্যে ৬ ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ৬ ইউনিয়নের মধ্যে রাজাখালী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বিজয় লাভ করেছেন। বাকী ৫টি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে।

পরাজিত নৌকার প্রার্থীদের অভিযোগ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম নৌকা প্রার্থীদের মনোনয়ন মেনে নিতে পারেন নি। তিনিসহ আরও বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা সরাসরি নৌকার বিরোধীতা করেছেন। এমনকি তারা কোথাও কোথাও সরাসরি জামাত-বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্রপ্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন।

পেকুয়া সদর ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেছেন, গত ইউপি নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ বেশ কয়েকজন নেতার চরম বিরোধীতার কারণে তিনি ৬ হাজার ভোট পেয়েও বিজয় লাভ করতে পারেনি। এ ব্যাপারে তিনি দলের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

তিনি আরও জানান, আবুল কাশেম গত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। বিএনপি সমর্থিত কোন প্রার্থী ওই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার পরও দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে তিনি হেরে যান। তার বাড়ী পেকুয়া সদর ইউনিয়নে হওয়ায় তিনি উপজেলা নির্বাচনে হেরে আবার সদর ইউনিয়নের নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ছিলেন। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন বোর্ড তাকে মনোনয়ন না দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জহিরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেন।

জহিরুল ইসলামের এ মনোনয়ন মেনে নিতে না পেরে আবুল কাশেম সাথে সাথে তার নিজ ফেসবুকে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে তাকে ভোট না দেওয়ার জন্য সর্ব সাধারণকে আহবান জানান। তাকে এলাকায় ঢুকতে দেবে না বলেও হুমকি দিয়েছিল। এমনকি আবুল কাশেম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে মনোনয়ন বোর্ডের প্রধান দলীয় সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘পেকুয়া সদরের দলীয় নমিনেশন ক’টাকায় বিক্রি হয়? ‘জীবনে শুধু টাকায় চিনলি।’

শুধু তাই নয়, আবুল কাশেম পেকুয়া সদরে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ধনাঢ্য ব্যক্তি বাহাদুর শাহ’র পক্ষে সরাসরি নির্বাচন করেছেন অভিযোগ আছে। শিলখালীর নৌকার প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজী উল ইনসানও একই অভিযোগ করেন। বারবাকিয়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য জি এম আবুল কাশেম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ হোছাইন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফিজুর রহমান, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বারেক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম এ নির্বাচনে তার বিরোধীতা করে জামাত সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তুলেন।

সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম আরও জানান, নৌকা বিরোধী দলীয় নেতারা তাকে এলাকায় থাকতে দিচ্ছেন না। দলীয় সভা সমাবেশে গেলেই তার ওপর হামলা করা হচ্ছে। গত ২৭ মার্চ উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় হামলা করা হয়।

এ ব্যাপারে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় দায়ীত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক টিমের প্রধান আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপনকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তিনি হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বহিস্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে জেলা আওয়ামী লীগকে নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই নির্দেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় হামলাকারী নৌকা বিরোধীরা আস্করা পেয়ে গেছে। এতে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে নৌকা বিরোধী ও নৌকা সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, আমি কোন সময় নৌকার বিরোধিতা করিনি। অযোগ্যদের নৌকায় দেওয়ায় তারা পারাজিত হয়েছে। আর ষড়যন্ত্রকারীরা আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেছেন, পেকুয়ার বর্ধিত সভায় সহ-সভাপতি ও নৌকার প্রার্থী জহিরুল ইসলামের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে শ্রীঘ্রই দলীয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন