স্বর্ণের হাঁড়ির খোঁজে উত্তর ফটিকছড়িতে বরখাস্তকৃত এক পুলিশের নেতৃত্বে প্রাক্তন বিডিআরের বাড়িতে তাণ্ডব

নিজস্ব সংবাদদাতা, রামগড় : 

রামগড় উপজেলার পার্শ্ববর্তী উত্তর ফটিকছড়ির বাগানবাজার ইউনিয়নের আঁধারমানিক এলাকায় কথিত স্বর্ণের ডেকচির খোঁজে এক প্রাক্তন বিডিআরের হাবিলদারের বাড়িতে ব্যাপক তান্ডবলীলা চালানো হয়েছে। র্দুবৃত্তদের হামলায় ঐ বাড়ির মহিলা ও শিশুসহ ৭জন আহত হয়েছে। ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে ঘরের মালামাল।

প্রাক্তন বিডিআরের হালিদার মনিরুজ্জামান(মনু বিডিআর) দাঁতমারা তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর গতকাল বৃহষ্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাত ২ টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত দুর্বৃত্তরা নারকীয় তান্ডব চালায় কথিত সোনার হাঁড়ির জন্য।

এদিকে তান্ডবকারীদলের হোতা চাকুরি থেকে বরখাস্ত হওয়া পুলিশের কনস্টেবল কবির রায়হানকে  আটক করার পর ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। সে বাগানবাজার ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।

গৃহকর্তা প্রাক্তন বিডিআরের হাবিলদার মনিরুজ্জামান জানান, ২০-২৫জন দুর্বৃত্ত রবিবার রাত ২টার দিকে বাড়িতে হানা দেয়। তারা  দরজা ভেঙ্গে ঘওে ঢুকে মহিলা পুরুষ সকলের  হাত বেধে বেদম মারধর শুরু করে। তারা কথিত সোনার ডেকচি কোথায় আছে জানতে চায়। এ ডেকসির জন্য দুর্বৃত্তরা ধারালো দা ছুরি দিয়ে কোপায়। এক মুহুর্তে মুিনরুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রী হনুফা বেগমকে  দুহাত পিছমোরা করে নাকেমুখে পানি ঢালতে শুরু করে তারা। শিশুদের গলায় ছুরি ধরে জবাই করার হুমকী দেয়া হয় ডেকচি এনে দিতে।

তিনি জানান, ঐ দুর্বৃত্তরা সবাইকে ঘরের একটি কক্ষে বেধে রেখে রান্না ঘরের পাকা মেঝে শাবল ও কোদাল দিয়ে খুঁড়ে গর্ত করে কথিত সেনার হাঁড়ি খুঁজতে থাকে। ভোর সোয়া চারটারদিকে আকাশ ফর্সা হয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় আলমিরা ভেঙ্গে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, দাবী কাপড় চোপরসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। দুর্বৃত্তদের বেদম প্রহার ও ছুরির আঘাতে গৃহকর্তা মনিরুজ্জামান, স্ত্রী হনুফা বেগম, কন্যা খাদিজা বেগম, পুত্র আমীর হোসেন এবং বেড়াতে আসা আত্মীয় দেলোয়ার হোসেন, মঞ্জুমা বেগম, নাতি শরিফ আহত হয়। এদের মধ্যে হনুফা বেগম, খাদিজা বেগম ও দেলোয়ারকে রামগড় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বাগানবাজার ইউনিয়নের চেয়ারমান রুস্তম আলী জানান, তিনি অনুসন্ধান চালিয়ে এ ঘটনার হোতা কবির রায়হানকে আটক করেছিলেন। মোটর সাইকেলে করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসার সময় সে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। তিনি জানান, তার দোকান ঘরে তালা লাগানো হয়েছে। ধরার জোর চেস্টা চলছে। তিনি বলেন, যুবলীগের নেতা বা যাই হোক না কেন তাকে রেহাই দেয়া হবে না। অন্য যারা জড়িত তাদেরকেও কঠিন শাস্তি পেতে হবে।

দাঁতমারা তদন্ত কেন্দ্রের আইসি এসআই মীর কাশেম আলী জানান, প্রাক্তন বিডিআরের হাবিলদার মনিরুজ্জামানের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেছেন। বরখাস্ত হওয়া পুলিশের কনস্টেবল কবির রায়হান যে এ ঘটনার মূল নায়ক তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন তাকে গ্রেফতারের চেস্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঐ গৃহকর্তাকে এ ব্যাপারে ভুজপুর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো জানান, কবির রায়হানের নেতৃত্বে  স্থানীয় সাগর,মোকতার,বেলাল,শাহিন, অলিসহ ২০-২৫জন বখাটে যুবক এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এদেরমধ্যে অলি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। এরা ঘটনার পর দিন থেকে গা ঢাকা দিয়েছে।

গতকাল বৃহষ্পতিবার প্রাক্তন বিডিআরের হাবিলদারের বাড়িতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের চালানো তান্ডলীলার চিত্র দেখাগেছে। ঘরের চাল থেকে শুরু করে  সমস্ত মালামাল চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটানো রয়েছে। আসবাবপত্রগুলো ভাংচুর করা হয়েছে। রান্না ঘরের পাকা মেঝে ভেঙ্গে কোদাল ও শাবল দিয়ে খুঁড়ে বিরাট গর্ত করা হয়েছে। ঘরের মহিলা পুরুষ সবার চোখেমুখে ভয় ও আতংকের ছাপ দেখা গেছে।
                                  

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন