পেকুয়ায় সরকারী অনুষ্ঠানে মেয়াদোত্তীর্ণ মিনারেল ওয়াটার সরবরাহের অভিযোগ
পেকুয়া সংবাদদাতা :
পেকুয়ায় সরকারী অনুষ্ঠানে মেয়াদোত্তীর্ণ মিনারেল ওয়াটার সরবরাহের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার পেকুয়া উপজেলা হল রুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্যে পানি সহ নাস্তার প্যাকেট সরবরাহের দায়িত্ব নেয়া পেকুয়া চৌমুহনীর অভিজাত মিষ্টি বিপনী কেন্দ্র “বনফূল মিষ্টির”দোকান।
অনুষ্ঠান শেষে নাস্তা খাওয়ার সময় মেয়াদোত্তীর্ণ প্রাণ কোম্পানীর মিনারেল ওয়াটার দেখে সবাই হতবাক হয়ে পড়ে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তিন দিন ব্যাপী ফলদ ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথি, সাংবাদিক ও কৃষকদের মাঝে বনফুল কোম্পানির পেকুয়া শাখা থেকে ক্রয় করা পঁচা-বাসি ছমুচা, মিষ্টি ও কেকসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়। সাথে বনফুল থেকে কৃষি অফিসের ক্রয় করা প্রায় ৫০টি ৬‘শ মিলিগ্রামের প্রাণ কোম্পানির মিনারেল ওয়াটারও দেয়া হয়। মিনারেল ওয়াটার মেয়াদোত্তীর্ণ দেখে ও সরবরাহকৃত অন্যন্য খাবার সামগ্রী না খেয়ে অতিথিরা চলে যান।
দেখা গেছে, বনফুল পেকুয়া শাখা থেকে সরবরাহ করা প্রাণ পানির বোতলে উৎপাদনের তারিখ উল্লে¬খ আছে ২৩/১১/২০১০ ইংরেজী। আর মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখা আছে ২২/১১/১১ ইংরেজী। আবার কিছু কিছু বোতলে ১৩ সালেই মেয়াদোত্তীর্ণ দেখা গেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ পানি সরবরাহ করায় বনফুলের পেকুয়া শাখার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সরকারী কর্মকর্তা ও কৃষকরা।
এদিকে সরকারী অনুষ্ঠানে ভেজাল পানি সরবরাহকারী বনফুল পেকুয়া শাখার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড: একেএম নাজমুল হক। তিনি বলেন, সরকারী অনুষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে মুনাফালোভী বনফুলের পেকুয়া শাখা জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গুরুতর অন্যায় করেছে।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে সরাসরি বনফুল পেকুয়া শাখার মালিক সাতকানিয়ার বাসিন্দা মহিউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ‘ কৃষি অফিস তার দোকান থেকে মঙ্গলবার বিভিন্ন খাবার সামগ্রীর সাথে প্রাণ কোম্পানির বোতলজাত মিনারেল ওয়াটারও ক্রয় করেছে। বোতলজাত পানি মেয়াদত্তেীর্ণ হয়েছে কিনা তা না দেখেই বিক্রি করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি এক পর্যায়ে প্রাণ কোম্পানির বোতলজাত পানি তার দোকান থেকে ক্রয় করা হয়নি বলে দাবী করেছেন।


















