ফলোআপ

খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগ যেন অরাজক প্রতিষ্ঠান, নেই জবাবদিহিতা

fec-image

খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগ এখন একটি অরাজক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যেখানে নেই কোন জবাবদিহিতা। যেন ক্ষমতা যার, কাজ তার। নিবন্ধিত ঠিকাদাররা কাজ পায় না, কাজ পায় অনিবন্ধিত ঠিকাদাররা। তাও আবার টেন্ডার হওয়ার আগে কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। ফলে ঠিকাদারদের মধ্যে বিরোধ তৈরী হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর তাতে লাভবান হচ্ছে ঐ প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তি ও বসন্তের ঠিকাদাররা।

অপর দিকে খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগের সম্পদগুলো দিনের পর দিন বেহাত হয়ে গেলেও সে দিকে নজর নেই গণপূর্ত বিভাগের কর্তা ব্যক্তিদের।

প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগে তালিকাভূক্ত তিন শ্রেনীর ৫১ ঠিকাদার রয়েছে। এরা প্রতি বছর ২৫০০ টাকা সরকারী ফি-দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করেন। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী তার পছন্দের ব্যক্তিকে ওটিএম পদ্ধতিতে কাজ দিয়ে দেন।

নাম প্রকাশ না শর্তে একাধিক ঠিকাদারদের অভিযোগ, তারা প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন ফ্রি জমা দেন। কিন্তু, নির্বাহী প্রকৌশলী তার পছন্দের মত যারা নিবন্ধিত ঠিকাদার নয়, যাদের গণপূর্ত বিভাগে লাইসেন্স নেই, তাদের দিয়ে তিনি ট্রেন্ডারের আগে কাজ করিয়ে ফেলেন। ফলে এ নিয়ে সৃষ্টি হয় জটিলতা।

খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগে দীর্ঘ দিন কাজ করে আসছেন এমন এক ঠিকাদারের প্রশ্ন কাজ পায় না, পেলেও করতে পারি না তাহলে কেন প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন করবো ও সরকারকে রাজস্ব দেবো।

অপর এক ঠিকাদার বলেন, এলটিএম পদ্ধতিতে টেন্ডার হলে সকল ঠিকাদার অংশ নিতে পারতেন। প্রতিটি কাজের বিপরীতে অসংখ্য সিডিউল বিক্রি হতো। সরকার পেতেন বিপুল পরিমাণের রাজস্ব। কিন্তু ওটিম পদ্ধতিতে কাজ ভাগাভাগি হওয়ার কারণে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি বছরের পর বছর সরকারি রাজস্ব দিয়ে লাইসেন্স নাবায়ন করে পাচ্ছে না কাজ প্রকৃত ঠিকাদাররা।

অভিযোগ রয়েছে, খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগের অধিকাংশ কাজ পছন্দের ব্যক্তিকে দিয়ে আগাম করিয়ে ফেলা হয়। আর জুন মাসে একই কাজে টেন্ডার আহবান করেন। আর সে সুবাধে অনিবন্ধিত ঠিকাদাররা অন্যের লাইসেন্সের বিপরীতে নাম মাত্র কাজ করে বিল উত্তোলন করে নিয়ে যান।

খোদ খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি জীতেন বড়ুয়ার অভিযোগ, তিনি স্ত্রীর সুবাধে যে সরকারি বাসায় থাকেন, সে বাসা সংস্কারের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হলেও ঠিকাদার ঐ ভবনের সামনের অংশে চুন লেপে দিয়ে চলে যায়। ভবনের পিছনসহ আরো তিন অংশে কিংবা ভিতরে কোন কাজ করেনি।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারল আজিমের মুখোমুখী হলে তিনি বলেন, সরকারের নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই অধিকাংশ কাজই ওটিম পদ্ধতিতে করাতে হয়। তাঁর ব্যাখ্যা খাগড়াছড়ি থেকে কোন কর্মকর্তা বদলি হয়ে গেলে বা কোন নতুন কর্মকর্তা আসলে ঐ বাসাটি কোন না কোন ঠিকাদারকে দিয়ে সংস্কার করে দিতে হয়। পরবর্তীতে জুন মাসে এসে ওটিম টেন্ডারের মাধ্যমে সমন্বয় করে নিতে হয়।

এদিকে খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগের অবহেলার কারণে তাদের প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জড়াজীর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক সম্পত্তি বেহাতও হয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, শুধু খাগড়াছড়ি গণপূর্ত অফিস নয়, জুন মাসে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও খাগড়াছড়ির সব সরকারি দপ্তরেই চলছে, গত অর্থ বছরে বেঁচে যাওয়া অর্থ সরকারের দপ্তরে ফেরত না দিয়ে নয়-ছয় করে আত্মসাত করার মহোৎসব।

দেখার যেন কেউ নেই। জুন ক্লোজিং এ খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগের দুর্নীতি ও অনিময় তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে বলে সচেতন মহল এমনটা দাবি করছেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন