চলনবিলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পল্লীতে কারাম উৎসব

fec-image

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় কারাম উৎসবকে কেন্দ্র করে শিশু, কিশোর, নারী, পুরুষ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে মেতে উঠেছে চলনবিলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা।

বুধবার রায়গঞ্জ উপজেলার পশ্চিম আটঘরিয়া গ্রামে কুড়মালি পাঠশালা প্রাঙ্গণে কুড়মালি ভাষা সংস্কৃতি চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হয় কারাম উৎসব। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পল্লীর অন্যান্য স্থানেও ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে কারাম উৎসবের আয়োজন করা হয়।

তাড়াশ, রায়গঞ্জসহ ৭টি উপজেলার মাহাতো, কুর্মি মতাতো, সাঁওতাল, ওঁরাও, বড়াইক, সিং, পাহান, মাহালিসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ কারাম উৎসবে অংশ নেন।

কুড়মালি ভাষার লেখক ও গবেষক রায়গঞ্জ উপজেলার পশ্চিম আটঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল মাহাতো জানান, বর্ষায় চারিদিক পানিতে পরিপূর্ণ থাকায় কৃষিজীবী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের নারী-পুরুষ অবসরে থাকেন। আর এই ভাদ্র মাসেই আসে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কারাম উৎসব। যা তারুণ্যের উৎসব বলেও পরিচিত।

পঞ্জিকা মতে, সোমবার ডালায় গজানো চারা গাছের বিশেষ পরিচর্যার মধ্য দিয়ে কারাম উৎসবের শুরু হয়েছিল। আর বুধবার মূল পূজা সম্পূর্ণ করা হয়।

মাহাতো সম্প্রদায়ের প্রবীণ নারী সারথি রানি মাহাতো (৭০) বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ভাষায় জাঁওয়া বলতে বোঝায় মাটি, বালি, মুং, কুর্থি, ছোলা ইত্যাদি। যা দিয়ে চারা গাছের অঙ্কুরোদগমের ডালা তৈরি করা হয়। এটি বৃহৎ অর্থে বুঝিয়ে থাকে, গাছের তথা বিভিন্ন বীজের অঙ্কুরোদ্গম যা সন্তান স্নেহে লালনপালন ও সংরক্ষণ করা হয়।

কারাম উৎসবে মূলত বীজের অঙ্কুরোদ্গম, বীজ থেকে চারা তৈরি, সন্তান স্নেহে লালনপালন ও সংরক্ষণ যার প্রতীকী অর্থ কৃষি প্রধান দেশ বা এ অঞ্চলের মানুষের ধর্মীয় রীতিতে প্রকৃতিকে বন্দনা করাকেই বোঝায়।

শিক্ষার্থী দুর্জয় মাহাতো জানান, কারাম উৎসবের শেষে ঝুমুর নাচের তালে আনন্দ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা। গভীর রাত পর্যন্ত কারামের রঙের ছটায় মেতে উঠেছিল চলনবিলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পল্লী।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন