ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে

মুক্তিযুদ্ধে চাকমাদের অবদান অস্বীকার করার অভিযোগ

fec-image

ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী ফাতেমা তাসনিম মহান মুক্তিযুদ্ধে চাকমা সম্প্রদায়ের অবদান অস্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেল। তারা এ ধরনের বক্তব্যের জন্য আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন। তাঁরা মনে করেন, এমন বক্তব্য ডাকসুর গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

৩০ আগস্ট শনিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী নূমান আহমাদ চৌধুরী প্যানেলের পক্ষে এ কথাগুলো বলেন।

রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলনটি হয়। সেখানে প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী উমামা ফাতেমা, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী আল সাদী ভূঁইয়া, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক প্রার্থী সুর্মী চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

নূমান আহমাদ চৌধুরী বলেন, আজকে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় একটি আলাপচারিতার আয়োজন করে। সেখানে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের প্রার্থী ফাতেমা তাসনিম বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে চাকমাদের কোনো স্টেক (অংশীদারত্ব) নেই। এই মন্তব্য মহান মুক্তিযুদ্ধে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর যে অবদান ছিল, তাদের জন্য চরম অবমাননাকর। স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেল মনে করে, মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি, অবাঙালি, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষের অংশগ্রহণ ছিল।

নূমান আহমাদ আরও বলেন, এ আলাপচারিতার পরে ওই প্রার্থী ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলেন। কিন্তু শুধু একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো চাকমা জনগোষ্ঠীর মানহানি করার সুযোগ নেই বলে জানান নূমান আহমাদ।

মুক্তিযুদ্ধে চাকমা জনগোষ্ঠীর অবদান তুলে ধরে নূমান আহমাদ চৌধুরী বলেন, ‘২৫ মার্চ মধ্যরাতে গণহত্যা পরবর্তী সময়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ইপিআরের সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২০ থেকে ২২ জন চাকমা ছিলেন। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে চাকমাদেরও শহীদ রয়েছেন।’

এমন মন্তব্যের জন্য শিবিরের কাছে ব্যাখ্যার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায় স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেল। নূমান আহমাদ চৌধুরী বলেন, ‘যদি কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে মনে করব, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই প্যানেলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। যদি সেটা হয়ে থাকে, আমাদের ডাকসু নির্বাচনে কোনোভাবেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকা সম্ভব নয়।’

পরে এই প্যানেলের কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক প্রার্থী সুর্মী চাকমা বলেন, ‘ফাতেমা তাসনিম মুক্তিযুদ্ধে চাকমা জাতিগোষ্ঠীর অংশীদারত্ব অস্বীকার করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আমি এই বক্তব্যের ধিক্কার জানাই।’

সবশেষে এই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা বলেন, ‘আমরা প্যানেলের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বক্তব্যের জবাব চাই। মহান মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে অবমাননা করে যে প্রার্থী বক্তব্য দেয়, তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলটির কাছে জবাব চাই। তাঁরা এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি না, জানাতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং উক্ত প্যানেলের পক্ষ থেকে যথাযথ জবাব আশা করছি।’

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, চাকমা, ডাকসু
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন