৫৮ মহিলার সাথে যৌন সম্পর্কের ভিডিও প্রকাশ

ভারতের প্রভাবশালী জ্যোতিষী ক্যাপ্টেন অশোক খারাট আটক

fec-image

ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে স্বঘোষিত ধর্মগুরু ও জ্যোতিষী অশোক খারাটকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ‘ক্যাপ্টেন’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তিকে ঘিরে ৫৮ মহিলার সাথে যৌন সম্পর্কের ভিডিও প্রকাশসহ একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় ভারত জুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৬৭ বছর বয়সী খারাট একসময় মার্চেন্ট নেভির কর্মকর্তা ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি সংখ্যাতত্ত্ব ও জ্যোতিষচর্চার মাধ্যমে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন। নাসিকের মিরগাঁও এলাকায় ‘শ্রী শিবনিকা সংস্থান ট্রাস্ট’ গড়ে তুলে তিনি একটি বিস্তৃত আধ্যাত্মিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন, যা ধীরে ধীরে তাঁর কার্যকলাপের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ  রয়েছে, গত ১৫ বছরে তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। জমি, ফার্মহাউস ও আবাসন মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। ধনী ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত পরামর্শের জন্য তিনি একেকবারে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এই ‘আধ্যাত্মিক’ কর্মকাণ্ডের আড়ালেই গুরুতর অপরাধ চলছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ৩৫ বছর বয়সী এক মহিলা অভিযোগ করেছেন, স্বামীর প্রাণ সংশয়ের ভুয়ো আশঙ্কা দেখিয়ে খারাত তাঁকে নিজের দফতরে ডেকে নিতেন। সেখানে নেশাজাতীয় পদার্থ মিশিয়ে পানীয় খাইয়ে তাঁকে বারবার ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই নির্যাতন চলেছে।

তদন্তে আরও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। একটি পেনড্রাইভ থেকে ৫৮টি ভিডিও উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটিতে মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতনের দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। ফলে আরও একাধিক মহিলা এই চক্রের শিকার হয়েছেন বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মহারাষ্ট্র সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। এই তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুণে রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের কমান্ড্যান্ট তেজস্বী সাতপুতে। অশোক খারাটের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে, পাশাপাশি ব্ল্যাক ম্যাজিক বিরোধী আইনেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে, খারাতের সঙ্গে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগ নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রূপালী চাকনকরের নামও আলোচনায় এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে চাকনকরকে খারাতকে ‘গুরু’ হিসেবে সম্মান জানাতে দেখা গেছে।

ঘটনার পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সরব হয়েছে এবং রূপালী চাকনকরের পদত্যাগের দাবি তুলেছে। পুরো ঘটনাকে ঘিরে অন্ধবিশ্বাস, ক্ষমতার প্রভাব এবং সমাজে তথাকথিত আধ্যাত্মিক গুরুর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

সূত্রঃ দ্যা ওয়াল

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ধর্ষণ, ভারত, মহারাষ্ট্র
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন