বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের ১৮০ কিলোমিটার সড়ক; সংস্কারে প্রয়োজন ১৩৩ কোটি টাকা


টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি নেমে গেলেও বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদে রয়ে গেছে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। কোথাও পাহাড় ধসে সড়ক চাপা পড়েছে, কোথাও সড়কের বড় অংশ ধসে গেছে, আবার কোথাও পিচের কার্পেট উঠে সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এবারে বন্যায় জেলার প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার পর বান্দরবান-রুমা, বান্দরবান-রোয়াংছড়ি, বান্দরবান-থানচি, লামা-আলীকদমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। কোথাও কোথাও জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী মেরামত করা হলেও পাহাড় ধসের আশঙ্কা এখনো কাটেনি। বান্দরবান- রাঙামাটি সড়কে ব্রীজঘাটা এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে বেইলী ব্রীজ ধ্বসে গেছে। আর বিকল্প অস্থায়ী সড়ক হিসেবে শিলক্ষ্যা খালের উপর বাঁশের সাকো দিয়ে মানুষ পারাপার হয়ে যাতায়াত করছে। তবে এখনো যানচলাচল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
সড়ক ও জনপদ তথ্যনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন সড়কে।রাঙ্গামাটি -বান্দরবান সড়কের বেইল ব্রীজ ধ্বসে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। একই সাথে বাইশারি হতে নাইক্ষ্যংছড়ি -কক্সবাজার অভ্যন্তরীণ সড়কসহ বিভাগের ৬৩ কিলোমিটার সড়কে প্রায় ৭৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এলজিইডি তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন রুমা-রোয়াংছড়ি- কচ্ছপতলী সড়ক ও সুয়ালক থেকে সরই এবং ব্রিকফিল্ড থেকে চিম্বুক পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার সড়কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
পাচউবো তথ্যনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ২৫ কিলোমিটার সড়কে প্রায় ২১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আর তিনভাগের ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক সংস্কারে ১৩৩ কোটি টাকা। তবে দ্রুত বরাদ্দ মিললে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কার ও পুনর্নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। তবে কিছু এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী মেরামতকাজ চালিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কচ্ছপতলী বাসিন্দা তৈনাক তংচঙ্গ্যা বলেন, এবারে বন্যায় খালের পাশে সড়ক ধ্বসে গেছে। এতে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
টংকাবতী ইউপি চেয়ারম্যান মায়াং ম্রো বলেন, সডকের অবস্থা খুবই ভয়াবহ অবস্থা। কোনমতে একটি মোটর সাইকেল চলাচল করতে পারে। বড় গাড়ি চলাচল করতে পারে না।
বান্দরবান- রাঙামাটি ব্রীজঘাটা বাসিন্দা তৈয়ব চৌধুরী বলেন, প্রবল স্রোতে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়া ব্রীজ ধ্বসে গেছে। এখন শিক্ষার্থী, গর্ভবতী ও ব্যবসা বানিজ্য নানা সমস্যা প্রভাব পড়ছে। বান্দরবান থেকে রাঙামাটি যোগাযোগ এখনো বিছিন্ন। আমরা চাই দ্রুত মেরামত করে যানবাহন চলাচলে স্বাভাবিক হোক।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বন্যায় বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব সম্পন্ন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
এলজিইডি বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্কের অনেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও জরুরি ভিত্তিতে চলাচল সচল রাখতে অস্থায়ী মেরামত করা হচ্ছে। তবে স্থায়ী সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ জরুরি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বীন ইয়াছির আরাফাত বলেন, “উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি সড়কে ভাঙন ও ধসের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর তালিকা ও ব্যয়ের প্রাক্কলন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
















