বদরুদ্দীন উমর ছিলেন স্বাধীন বিবেকের প্রতীক : তারেক রহমান

fec-image

প্রখ্যাত লেখক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, ‘বদরুদ্দীন উমর ছিলেন এ দেশের স্বাধীন বিবেকের এক প্রতীক।’

শোকবার্তায় তারেক বলেন, ‘মরহুম বদরুদ্দিন ওমর বারবার রাজরোষে পড়া সত্ত্বেও আদর্শ বাস্তবায়নে ছিলেন আপসহীনভাবে স্থির। কোনো ভীতি বা হুমকি তাকে নিবৃত্ত করতে পারেনি তার কর্তব্যকর্ম থেকে। স্বৈরতন্ত্রকে উপেক্ষা করে তিনি তার স্বাধীন মতামত প্রকাশে কখনোই কুণ্ঠিত হননি।’

বদরুদ্দীন উমরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বামপন্থি প্রগতিশীল রাজনীতির পথিকৃত, লেখক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমরের জীবনাবসানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও আমি গভীরভাবে মর্মাহত। স্বাধীনচেতা, নির্ভিক কণ্ঠস্বরের এই বুদ্ধিজীবীর এই মুহূর্তে পৃথিবী থেকে চলে যাওয়া জনমনে হতাশার সৃষ্টি করেছে।’

‘জনগণের সম্মান ও নিদারুণ বেদনাকে মর্মে মর্মে উপলব্ধি এবং সেটিকে প্রতিবাদের ভাষায় মূর্ত করতে পারতেন মরহুম বদরুদ্দীন উমর। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশমাতৃকার স্বাধীনতা এবং সব স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রামে প্রয়াত বদরুদ্দীন উমরের চিন্তা ও লেখনিসহ সক্রিয় তৎপরতা ছিল অবিস্মরণীয়’, যোগ করেন তারেক।

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির নানা ক্রান্তিকালে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক পরিবর্তনের পর্ব নিয়ে তার গবেষণাধর্মী গ্রন্থসমূহ এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে পাঠক সমাজের নিকট সমধিক সমাদৃত।’

রূপনগরের বাসায় রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে বদরুদ্দীন উমরকে নেয়া হয় বাংলাদেশ স্পেশালাইজ হাসপাতালে। পরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে ছুটে আসেন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তারা বলেন, দেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রামে বদরুদ্দীন উমর চিরকাল প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবেন।

বেলা সোয়া ১২টার দিকে তার মরদেহ লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে বাসায় নেয়া হয়। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বদরুদ্দীন উমরের মরদেহ নেয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। পরে জুরাইন কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হবে তাকে।

বদরুদ্দীন উমর ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী। এক সময় পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন তিনি। ২০০৩ সালে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন গড়ে সভাপতির দায়িত্ব নেন বদরুদ্দীন উমর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা দিয়ে শুরু, পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তার হাত ধরেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগেরও যাত্রা। সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারসহ বেশ কিছু পুরস্কারে ভূষিত হন বদরুদ্দীন উমর। তবে কোনো পুরস্কারই তিনি গ্রহণ করেননি। ৯৪ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনের ইতি টেনে রেখে গেলেন চিন্তা, দর্শন আর সংগ্রামের অনুপ্রেরণা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: তারেক রহমান, বদরুদ্দীন উমর
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন