যেসব কারণে পাহাড় ধসের শঙ্কা

fec-image

পাহাড় ধসের মানবসৃষ্ট কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ হলো- নির্বিচারে বন ও গাছপালা ধ্বংস করা। পরিকল্পনার অভাব আরেকটি মূল কারণ। এছাড়াও আছে অপরিকল্লিতভাবে পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন, রাস্তা ও সড়ক নির্মাণ এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক স্থাপনা নির্মাণে বিল্ডিং কোড না মানা। উন্নয়নমূলক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও আরেকটি মূল কারণ। তাছাড়াও আছে পাহাড়ে উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুনিদিষ্ট নীতিমালার অভাব ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাটি পরীক্ষার ফলাফল যথাযথভাবে অনুসরণ না করে পুরোনো অ্যালাইনমেন্টের ওপর কাজ করাও আরেকটি কারণ। এছাড়া অপরিকল্পিত জুমচাষও পাহাড় ধসের কারণ। জুমচাষে আগাছানাশক ওষুধ ব্যবহার করার ফলে পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে যায়। এছাড়া পাহাড়ের পরিবেশ প্রতিবেশ অনুযায়ী ফসলাদি চাষ না করে আদা, হলুদের চাষ করায় প্রচুর মাটি ক্ষয় হয়। মানবসৃষ্ট অন্যান্য কারণের মধ্যে আছে পাহাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ না লাগিয়ে বেশি লাভের আশায় অধিক হারে সেগুনগাছ লাগানো । তাছাড়া, পানি নিষ্কাশনের সুযোগ না রেখে উন্নয়নমূলক কাজ করা। পাহাড় থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন করাও বড় কারণ।

পাহাড়িরা তাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী গাছে-বাঁশ দিয়ে মাচাঙ্গ ঘর তৈরি করে বসবাস করে। কিন্তু এখন অবস্থা বদলে গেছে। বসতি স্থাপনকারীদের দেখা দেখি এখন পাহাড়িরাও কোদাল দিয়ে পাহাড় কুপিয়ে আদা, হলুদ ইত্যাদি চাষ করছে। শহর এলাকার পাহাড়িরাও ঘর বাড়ি নির্মাণের ঐতিহ্য মানে না। এখন তারাও পাহাড় কেটে ঘর বাড়ি নির্মাণ করছে। ফলে পাহাড় ধসের ঘটনা বেড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়িদের উচিত নিজেদের জীবন সম্পদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য পাহাড় না কেটে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও চাষাবাদ করা। তাছাড়া যে সমস্যাগুলো আলোচনা করা হয়েছে স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পাহাড় না কাটা, বনসংরক্ষণ করা এবং পাহাড়ে নতুন নতুন বন সৃষ্টির জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। তাছাড়া যেসব প্রভাবশালী অর্থবান ব্যক্তিরা পাহাড় কেটে-গৃহনির্মাণ করছে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদেক্ষপ সরকারকে নিতে হবে। তাহলে পাহাড় ধসের মতো করুন ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি, পাহাড় ধস, বান্দরবান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন