যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত কুখ্যাত এপস্টেইন ফাইল

নরবলি ও নরমাংস ভক্ষণের পৈশাচিক রীতিনীতি, শয়তানীয় দেবতা “বাল” ও বিশ্ব রাজনীতির কলকাঠি

fec-image

২০০৯ সালের আগস্ট মাসে মেক্সিকোর মন্টেরে শহরের হোটেল ‘ফিইস্টা ইন’ থেকে হঠাৎ অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় খালি পায়ে দৌড়ে বের হয়ে এসে ২১ বছর বয়সী মডেল গ্যাব্রিয়েলা রিকো জিমেনেস চিৎকার করে বলতে থাকেন, “ওরা মানুষ খাচ্ছে, ওরা মানুষ খাচ্ছে! ওরা আমাকেও হয়তো মেরে ফেলবে!” এরপর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়, আজ অবধি ওই মডেলকে আর কখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি, আসল ঘটনা কি ছিলো তাও জানা সম্ভব হয়নি। শুধুমাত্র এইটুকু জানা গিয়েছে যে, ঐ হোটেলে ল্যাটিন আমেরিকা এবং পশ্চিমা দেশসমূহের বহু অতি প্রভাবশালীদের নিয়ে পার্টি হচ্ছিল, যে পার্টিতে মডেল গ্যাব্রিয়েলা উপস্থিত ছিলেন।

২০২৪ সালের মার্চে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন, “পশ্চিমা উচ্চবর্গ (নেতৃত্ব) শতাব্দী ধরে মানুষের মাংস দিয়ে পেট পূর্ণ করছে। তাদের বুঝা উচিত এই রক্ত চোষা পৈশাচিক রাজত্বের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে।” প্রেসিডেন্ট পুতিন এর ওই বক্তব্য তখন রূপক মনে হলেও এপস্টেইন ফাইল প্রকাশিত হওয়ার পর আবার ব্যাপকভাবে প্রচারণা পেয়েছে। দ্রষ্টব্য যে, প্রেসিডেন্ট পুতিন যৌবনে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন এর আন্ডারকভার গোয়েন্দা অপারেটিভ হিসেবে ইউরোপে নিয়োজিত ছিলেন এবং আজকের দিন পর্যন্ত তিনি প্রায় ২৩ বছর ৭ মাস যাবৎ রাশিয়ান ফেডারেশন’র সকল গোয়েন্দা প্রতিবেদনের চূড়ান্ত গন্তব্যস্থল।

সদ্য প্রকাশিত এপিস্টেইন ফাইলে একজন নির্যাতিতের বক্তব্যের সূত্র হিসেবে প্রকাশিত আগস্ট ২০১৯ এর এক মেইল থেকে জানা যায় যে, “এপস্টেইন এর প্রমোদ তরীতে ভিকটিম জর্জ বুশ সিনিয়র কর্তৃক ধর্ষিত হয়েছে, ওই প্রমোদ তরীতে শিশুদের শয়তানীয় রীতিতে বলি দেওয়া হয়েছে, তরবারি দিয়ে শিশুদের পা এমনভাবে কাটা হয়েছে যাতে কোনো ক্ষত চিহ্ন না থাকে, শিশুদের দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে তাদের নাড়িভুড়ি বের করে ফেলা হয়েছিল, উপস্থিত লোকজন ওই নাড়িভুড়ির চামড়া খেয়েছে।”

এবার নিশ্চয়ই আরো পরিস্কারভাবে বুঝা যাচ্ছে মেক্সিকান মডেল গ্যাব্রিয়েলা ও প্রেসিডেন্ট পুতিন এর বক্তব্য নতুন করে কেনো এতো ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। সবাই এখন আরো সুস্পষ্টভাবে বুঝতে সক্ষম হচ্ছেন যে, গাজায় নারকীয় উল্লাসে হাজার হাজার নারী ও শিশু হত্যার মানসিক শক্তির উৎপত্তি কোথায় থেকে এবং এপস্টেইন দ্বীপে নরবলি ও নর মাংস ভক্ষণের ঐ রীতিনীতি কীভাবে পৌঁছালো? ফাঁস হওয়া নথির অন্য আরেকটি ই-মেইলে দেখা যাচ্ছে, এপস্টেইন তার একটি ব্যাংক একাউন্টে সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘Baal বা বাল’।

এই ‘বাল’ এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে এপস্টেইন দ্বীপে এবং রুথচাইল্ড পরিবার নিয়ন্ত্রিত পশ্চিমা বিশ্বে নরবলি ও নরমাংস ভক্ষণের রীতির আসল রহস্য। রুথচাইল্ড পরিবারের বেশ কিছু পারিবারিক ছবিতে কিছু কিছু সদস্যকে বিভিন্ন সময়ে বাল রুপে পোজ দিতে দেখা গিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পশ্চিমা বিশ্বে এপস্টেইন দ্বীপই একমাত্র ব্যক্তি মালিকানার দ্বীপ নয় যেখানে শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন চলছে ও নরমাংস ভক্ষণ চলছে, ইতালি থেকে আমেরিকা পর্যন্ত খুঁজে খুঁজে তালিকা করতে গেলে হয়তো কয়েক গিগাবাইট ডাটার নথি তৈরি হয়ে যাবে। টাইটানিক এর মতো মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রেও নগ্নতার বিজ্ঞাপন দেওয়া পশ্চিমা এলিট সমাজ পশুত্ব বরণ করতে করতে একেবারে আয়ামে জাহেলিয়াত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

পশ্চিমা দুনিয়ার অভিজাত গণিকালয়ে নরমাংস ভক্ষণ রীতির আগমন কোথায় কীভাবে?
প্রাচীন হিব্রু দেবতা (পথভ্রষ্ট বনি ঈসরাইলদের দেবতা) Baal Hadad প্রকাশ “বাল” কে বলা হয় ‘ঝড় এবং যৌন শক্তির দেবতা’। বাল এর পূজো অনুষ্ঠিত হতো পাহাড়ের উপর অথবা কৃত্রিমভাবে তৈরি উঁচু বেদীতে। বাল পূজোয় মানব শিশু বলি দিয়ে রক্ত দেব মূর্তির বেদীতে পূর্ণ করা হতো বা ছুড়ে মারা হতো, এরপর মৃত দেহের চর্বি দেবতার মন খুশি করার জন্য সুগন্ধি হিসেবে পোড়ানো হতো এবং মাংস রান্না করে উপস্থিত সকলকে খাওয়ানো হতো। এরপর মদ, পানীয়, রুটি এবং ফলফলাদি খাওয়ানো হতো। এই পূজার মাধ্যমে বাল দেবতা খুশী হয়ে বৃষ্টি দেন, পূজা ও নরমাংস ভক্ষণে অনুসারীদের যৌন শক্তি বৃদ্ধি এবং দীর্ঘায়িত করে দেন বলে উপকথা প্রাচীন হিব্রু সমাজে প্রচলিত ছিল।

পৈশাচিক এই পূজার বিষয়ে বর্তমানে উগ্রবাদী ইহুদিরা খোলামেলা আলোচনা করতে দেয় না এবং নরবলির বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করে না। তবে বাইবেলে (ইঞ্জিল শরীফে) এই শিশুবলির পরিস্কার উল্লেখ আছে এবং অভিসম্পাত করা হয়েছে। হযরত লূত (আঃ) এর সম্প্রদায় কে পুরুষে পুরুষে যৌন ক্রিয়ার জন্য ধ্বংস করে দেওয়ার পরের সময়কাল হতেই প্রাচীন ফিলিস্তিন ভূমিতে এই বাল পূজোর উদ্ভব হয়েছিল বলে অনেকের ধারণা। এই পৈশাচিক অর্চনার মধ্যে দূর্ত ইহুদিরা মূল রহস্য রেখেছে এটাই যে, পূজোর পর নরমাংসের সাথে পরিবেশনকৃত ফল ও খাবার মারাত্মকভাবে যৌন শক্তি বর্ধক। পরবর্তীকালে আজকের দিন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী সমকামিতা এবং নীল ছবির ব্যাপক প্রসারের মূলেও আছে ষড়যন্ত্রকারী ইহুদিদের বহু শতাব্দীর গোপন পরিকল্পনা।

ইসলাম ধর্ম, খ্রীস্টান ধর্ম, হিন্দু ধর্ম, এমনকি ইহুদিদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ “টোরাহ (তাওরাত শরীফ)” মোতাবেকও সমলিঙ্গে বিবাহ অবৈধ। কিন্তু শয়তান কি ধর্ম মানে? শয়তানের অনুসারী অতি পাপিষ্ঠ ইহুদীরা তোরাহ এর কথিত সংক্ষিপ্ত রুপ বা ব্যাখার ছলে নিজেরা “তালমুদ” নামক একটি ধর্মগ্রন্থ রচনা করেছে। যেটা মোতাবেক সমকামীতা বৈধ, বিবাহবহির্ভূত যৌনতা বৈধ, গয়িম (অ-ইহুদি) ধর্ষণ ও হত্যা বৈধ, ফিলিস্তিন ভূমিতে জোরপূর্বক প্রত্যাবর্তন বৈধ, ইহুদিরা সকল জাতির শ্রেষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃত।

ইউরোপ ও আমেরিকার খ্রীষ্টান যাজকগণ এই তালমুদকে শয়তানীয় তালমুদ বললে আখ্যায়িত করলেও নিরুপায়। ইউরোপীয় কমিশনের চেয়ারম্যান উরসুলা ভন ডার লিয়েন পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে ইহুদীবাদী প্রভুদের প্রতি আনুগত্য জানানোর জন্য প্রয়োজন ছাড়াই বলেছেন, “ইউরোপ তালমুদ এর শিক্ষাকে মূল্যায়ন করে।” অথচ যারা প্রকৃত তোরাহ এর অনুসারী ইহুদি তাঁরা ঠিকই দখলদারি ইহুদিবাদের বিরোধিতা করে এবং নিজেদের তোরাহ ইহুদি বলে পরিচয় দেয়।

পশ্চিমাদের দিয়ে হিরোশিমা-নাগাসাকি, ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো নারকীয় হত্যাযজ্ঞগুলো ঘটানো এবং গাজা গণহত্যার মতো ঘটনাগুলো অতি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরির জন্য পশ্চিমা অতি উচ্চবিত্ত সমাজে পৈশাচিকতা প্রবেশ করানো অতিব জরুরি ছিল। অন্যথায় অর্থ ব্যবস্থা, মিডিয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে রেখেও পশ্চিমা জমনত এবং রাজনীতি দখলদারি ইহুদিবাদের পক্ষে রাখা দুষ্কর হয়ে যাবে, তাই শত বছর পূর্ব হতেই পশ্চিমা অতি উচ্চবিত্ত সমাজে যৌন শক্তি বৃদ্ধির নামে অত্যন্ত গোপনে অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে শয়তানীয় দেবতা বাল পূজা। এটা একদম অতি সাধারণ গণিত, যারা শিশু জবাই করে খেতে পারে তারা গাজা গণহত্যার মতো হাজার গণহত্যা দেখেও চুপ থাকতে পারবে। এপস্টেইন ফাইল প্রকাশিত হওয়ার পর ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল (অব.) ফ্লীন টুইটারে (এক্স) লিখেছেন, “তুমি এটা করতে পারো ধরনের একটি কাজ হয়ে গেল! এই এপস্টেইন ফাইল (নথি, ইমেইল, ভিডিও, রেকর্ডিং) অদ্ভুত লাগছে। এসকল অভিজাতরা ৫০০+ বছর ধরে পৃথিবী শাসন করছে। তারা হয়তো জানে না তাদের এই রাজত্বের শেষ ঘনিয়ে আসছে। পরিস্কারভাবেই জেনারেল ফ্লীন উগ্রবাদী ইহুদিদের বৃটেনের রাজপরিবার হয়ে পুরো ইউরোপ এবং স্বাধীনতা অর্জন লগ্ন থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরো বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

কী এই এপস্টেইন ফাইল?
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও ঘৃণ্য পৈশাচিক শিশু যৌনকর্মী ব্যবসায়ী জেফ্রি এপস্টেইন এর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যাবতীয় বিবরণ এপস্টেইন ফাইল বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ ক’জন প্রেসিডেন্টসহ পুরো দুনিয়ার অসংখ্য অতি প্রভাবশালী ব্যক্তি এপিস্টেইন এর গ্রাহক বিধায় গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার অজুহাতে মার্কিন বিচার বিভাগ এসব প্রমাণ এযাবৎ গোপন রাখছিল।

মার্কিন কংগ্রেসে অতি সম্প্রতি পাশ হওয়া ইএফটিএ মোতাবেক ভিকটিম এর নাম ও পূর্ণাঙ্গ ছবি ব্যতিত সকল তথ্য প্রকাশ করার কথা থাকলেও অধিকাংশ অপরাধীর নাম মুছে দিয়ে মাত্র অর্ধেক নথি এনাগাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তাতেই পুরো বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এপিস্টেইন ফাইলে আছে প্রায় ৬০ লাখ নথি, যার মধ্যে হতে প্রায় ৩৫ লাখ নথি, ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। অবশিষ্ট প্রায় ২৫ লাখ নথি সম্ভাব্য মারাত্মক প্রতিক্রিয়া, জড়িত ব্যক্তির আইনী সুরক্ষা, অতি সংবেদনশীল তথ্য, চরম শিশু নির্যাতন ও যৌন হেনস্তা হিসেবে এখনো প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময় ধরে এতো বিশাল আকারের অপরাধ গুলো বছরের পর বছর নিঃসন্দেহে এপস্টেইন একা সংগঠিত করেননি, এর সাথে শত শত অপরাধী জড়িত ও পিছনে অনেক বৃহৎ শক্তি রয়েছে।

বাইডেন প্রশাসনের সাবেক সাইবার অফিসার মাইক বেঞ্জ দাবি করেন, “এপস্টেইন এর বৈদেশিক সকল সংযোগ ও অপরাধের বিবরণের অতি সামান্যই বিচার বিভাগের কাছে রয়েছে। তাই সিআইএ এর হাতে থাকা এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের আলাদা আরেকটি আইন পাশ করা উচিত।” অর্থাৎ এই ৬০ লাখ নথিও জেফ্রি এপস্টেইন এর অপরাধ সাম্রাজ্যের পুরো পূর্ণাঙ্গ বিবরণের প্রতিচ্ছবি নয়।

প্রকাশিত ফাইলে এপস্টেইন কর্তৃক সিআইএ এর বিমান ব্যবহারের প্রমাণও মিলছে! অতি সুপরিচিত মার্কিন অনলাইন এক্টিভিস্ট ইয়ান ক্যারল পোস্ট করেছেন, “মনে রাখবেন এপস্টেইন ফাইলে নথিভূক্ত প্রতিটি অপরাধ ইজরাইল এর স্বার্থে সংগঠিত হয়েছে। তারা চায় আপনারা শিশুদের যৌন নির্যাতনের প্রতি জোড় দেন। মনে রাখবেন প্রতিটি অপরাধ ইজরাইলি জিম্মি চক্রের অংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের উপর ইজরাইলি নিয়ন্ত্রণ অর্জনের জন্য পরিকল্পিত, প্রতিষ্ঠিত ও সমর্থিত। এবং এটা সফল হয়েছে।”

মার্কিন ধর্মীয় যাজক ও খ্রীস্টান অধিকারকর্মী রিক উইলস বলেছেন, “এপস্টেইন শুধুমাত্র এক হিংস্র জানোয়ার নয়- সে একজন মোসাদ গুপ্তচর। আমাদের রাজনৈতিকগণকে জিম্মি করার জন্য ইজরাইলি অর্থায়ন প্রাপ্ত একজন ভূয়ো শতকোটি ডলার মালিক, ওয়াশিংটন কে তেল আবিব (ইজরাইল এর মূল রাজধানী) এর উপনিবেশে পরিণত করেছে।”

এপিস্টেইন ফাইল এর প্রতিটি অপরাধ কোন না কোনভাবেই ইজরাইলকে লাভবান করে, এপস্টেইন নিজে ইহুদি এবং ইজরাইল ও রুথচাইল্ড পরিবার পক্ষে শত শত বৈঠক এবং বার্তা আদান প্রদানের প্রমাণ মিলেছে। এপস্টেইন এর সাথে একাধারে সাবেক ইজরাইলি তিন বাহিনী প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইহুদ বারাক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান ছিলো। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট সিনিয়র বুশ, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এবং বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ও টনি ব্লেয়ার, প্রিন্স এন্ড্রু, প্রিন্সেস সারাহ ফারগুসন, লর্ড মেন্ডেলসন, স্টিফেন হকিং, স্যার রিচার্ড ব্রেনসনগণের পাশাপাশি মার্কিন বিল গেটস, ইলন মস্ক, পিটার থিয়েল, স্টিভ ব্যানন, টম হ্যাংকস, জন ট্রাভোল্টা, ম্যাডোনা, দলাইলামা সহ সারাবিশ্বের শত শত ব্যক্তির নাম ওঠে আসার পরও ২৫ লাখ নথি এখনও গোপন রাখাকে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞগণ কুখ্যাত ইসরাইলি মোসাদ কে রক্ষার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। এপস্টেইন এর ম্যানেজার ও সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল হলেন ইজরালি মোসাদ অপারেটিভ ও ইজরাইলি অস্ত্র ব্যবসার দালাল রবার্ট ম্যাক্সওয়েল এর কন্যা, যিনি বর্তমানে এপস্টেইন কাণ্ডে ২০ বছরের সাজা ভোগ করছেন। এপস্টেইন ফাইল প্রকাশিত হওয়ার পর সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভূচিচ মন্তব্য করেছেন, “আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলা এবং অন্য কোনো বড় ঘটনা ঘটে যেতে পারে।” পরিস্কারভাবে ভূচিচ সকল প্রকার সমীকরণের বিরুদ্ধে গিয়ে ইজরাইল কর্তৃক ইরানে মার্কিন হামলার জন্য প্রাণপণ মরিয়া লবিং ইঙ্গিত করেছেন।

এপস্টেইন ফাইলের গঠন কি রকম?
এই এপস্টেইন ফাইল মূলত উগ্রবাদী ইহুদীলবীর বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ ষড়যন্ত্রের একটি দিঘি তুল্য প্রমাণ, এরকম দিঘি কতো হাজার আছে ধারণা করা দুঃসাধ্য। প্রকাশিত এই একটির বিবরণ হয়তো আগামী কয়েক দশক ধরে বিস্তারিত আকারে প্রকাশিত হতে থাকবে! ইতিমধ্যেই পৈশাচিক ও লোমহর্ষক অসংখ্য অপরাধের বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। যেগুলোর অধিকাংশ হলো শিশুদের পৈশাচিক কায়দায় যৌন নির্যাতন এবং ক্ষেত্রে বিশেষে বলিদান করে নরমাংস ভক্ষণ। যেমন বর্তমান বৃটেনের রাজা চার্লস এর ছোট ভাই প্রিন্স এন্ড্রু একবার একটি শিশুকে ধর্ষণকালে এতোটাই নির্যাতন করেন যে, এপস্টেইন দ্বীপ কর্তৃপক্ষ বাঁচানো যাবে না বিধায় বাধ্য হয়ে শিশুটিকে হত্যা করে!

যৌন নির্যাতন ও নরমাংস ভক্ষণের পাশাপাশি কি নেই এই এপস্টেইন ফাইলে! যা কিছু তে ইজরাইল এর স্বার্থ জড়িত সেগুলোর সবই আছে, হোক ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র বা সদ্য ইজরাইল কর্তৃক স্বীকৃতি দেওয়া সোমালিল্যান্ড কিংবা ইরান অথবা গাজা। আমার স্বল্প সময়ের অনুসন্ধানে দেখেছি এপস্টেইন ফাইলে ট্রাম্প ৫২০৫ বার, ইহুদ বারাক ৯৭৫৭ বার, বারাক ওবামা ২৫০৩ বার, টনি ব্লেয়ার ২৫৮ বার, গর্ডন ব্রাউন ৭৭ বার, লাদেন ৪১৯, দালাইলামা ১৬৯ বার, মোদী ১৩৪ বার, ইমরান ১০৮ বার, বিন সালমান ১১৮ বার, বিম জায়েদ ৮২ বার, আল থানি ২৯৬ বার, বিল গেটস ২৫৯৪ বার, ইলন মস্ক ১১১৬ বার, নেতানিয়াহু ৬৯০ বার, ইউএন ১১২১৭ বার, আইএসআইএস ৪৪৭ বার, পাকিস্তান ৯১৬ বার, ভারত ৪৯৬৩ বার, চীন ৯৪৭১ বার, রাশিয়া ৫৮০৮ বার, ইরান ১৮৮৫ বার, আফগানিস্তান ১০২৭ বার, মায়ানমার ১৩৪ বার, বার্মা ১০৭ বার, ইউক্রেন ১৯৭৪ বার, সিরিয়া ১৪১৪ বার, লিবিয়া ২০ বার, মিশর ১৩৮০ বার, ডি আর কঙ্গো ১২ বার, ইজরাইল ৫০৬১ বার, কেএসএ (সৌদি আরব) ১৬৮ বার, সোমালিয়া ২৮৭ বার, হুতি ৫৬ বার, হামাস ৬১৩, গাজা ৬৩৭ বার, লেবানন ৮০৩ বার, ফিলিস্তিন ৫৫৪ বার, সুদান ৪৭৭ বার, আফ্রিকা ৫৪৭৩ বার, আইডিএফ (ইজরাইল ডিফেন্স ফোর্স) ১৮৯ বার, মরক্কো ১৪৮০ বার, রুবিও ২০৬ বার, পুরি ২৭৫ বার, ড্রাগ ৩৫৭৭ বার, বিজেপি ১৮ বার এবং বাংলাদেশ ১৬৯ বার উল্লেখ আছে।

আরো হয়তো এরকম হাজার হাজার ব্যক্তি ও ঘটনার উল্লেখ আছে, আমি মাত্র ঘন্টাখানেক নিজের খুশি মতো অনুসন্ধান করেছিলাম। মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে ঢুকে এপস্টেইন লাইব্রেরী’তে গিয়ে যে কেউ নিজের কৌতূহল মোতাবেক উগ্র ইহুদীবাদী ষড়যন্ত্রের প্রমাণের এই দিঘির জলের গভীরতা পরিমাপের চেষ্টা করে দেখতে পারেন। আমার পক্ষে কূলকিনারা ও তলদেশ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব বলে মনে হয়েছে।

উত্তরণের উপায় কি?
বর্তমান আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর যুগে বিজ্ঞান, নাস্তিকতাবাদ, মানবাধিকার, ইচ্ছার স্বাধীনতা, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে অতি বাড়াবাড়ি যেমন করা হচ্ছে তেমনি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থে ধর্মের মূল বাণীকে পরিবর্তন করে চরম অপব্যবহারও করা হচ্ছে অনেকটা উগ্রবাদী ইহুদিদের শয়তানীয় তালমুদ এর আদলে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আ’লামিন বর্ণনা করেছেন “আমি আসমান ও যমিনের সবকিছু মানবজাতির কল্যাণে সৃষ্টি করেছি।” হালের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তো মহাকাশ গবেষণায় অর্জিত উৎকর্ষতার একটি পারিপার্শ্বিক ফলাফল মাত্র। অথচ এই কথা ধ্রুব সত্য আমরা নিজ গ্রহের মহাসাগরের সবকিছু কিংবা নিজ সৌরজগতের প্রতিটি বিষয় এখনো অবগত নই। এভাবে নিজ গ্যালাক্সি এবং পুরো মহাবিশ্ব মিলিয়ে তো কল্পনাতীত সব বিষয়সমূহ। অর্থাৎ বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের চরম উন্নতির সাথে ধর্ম এবং মানবিকতার কোন বিরোধ নেই, বিজ্ঞানের উন্নতি ধর্মের বহির্ভূত কোনো বিষয় না।

আধুনিক দর্শন এখনো আত্মা/পরমাত্মা/বস্তু/প্রথম নিমিত্ত কারণের নির্দিষ্ট অস্তিত্ব, আকৃতি ও উত্পত্তি নির্ণয় করতে সমর্থ হয়নি। এই যুগে ভোগবাদ ও বিজ্ঞানের কট্টর সমর্থকদের তাত্ক্ষণিক দৃশ্যমান সব লাভ ও প্রমাণমূলক যুক্তি সমূহের সামনে ধর্মের অতিব কোনঠাসা অবস্থা। উপরন্তু লক্ষ কোটি ধর্ম ব্যবসায়ী ও ভণ্ডদের তাণ্ডবে ধার্মিক শ্রেণি এখন চরম দ্বিধাগ্রস্থ এবং হতাশায় নিমজ্জিত। তবে যখনই মানবতা, দয়া, প্রেম, স্নেহ, আবেগ, নীতি, নৈতিকতা এবং প্রতিটি জীবনের মূল্যের মতো বিষয় গুলো সামনে ওঠে আসে, তখনই ধর্ম সবার একমাত্র প্রয়োজনীয় ও সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে অবশিষ্ট থাকে। অতএব এই শয়তানীয় দেবতা বাল অনুসারীদের নিয়ন্ত্রিত বিশ্ব ব্যবস্থায় আমাদের স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই ধর্মের প্রকৃত মানবিক শিক্ষা, এবং নিজস্ব সামাজিক মূল্যবোধকে আরো শক্ত করে আকড়ে ধরতে হবে। পশ্চিমা জীবনধারা ও উপদেশ কোনভাবেই আমাদের জন্য উত্তরণের উপায় হতে পারে না!

সূত্র: ইউএস জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট, দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, এক্স
লেখক: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন