পাহাড়ে ক্রীড়া জাগরণের নতুন অধ্যায়

খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধন

fec-image

সারাদেশের সঙ্গে একযোগে পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়িতেও বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্বোধন করা হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’।

“ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা” প্রতিপাদ্যে শনিবার (২ মে) বিকেলে খাগড়াছড়ি ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম পরিণত হয় শিশু-কিশোরদের স্বপ্ন, উচ্ছ্বাস আর সম্ভাবনার এক মিলনমেলায়।

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম।

একই সময়ে দেশের ৬৪টি জেলা স্টেডিয়ামে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন হাজারো খুদে ক্রীড়াবিদ। তাদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে সারাদেশজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আবহ।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের আশির দশকের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ একসময় শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে অসংখ্য প্রতিভার জন্ম দিয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর সেই ঐতিহ্যবাহী নাম এবার ফিরে এসেছে নতুন রূপে—মঞ্চ থেকে মাঠে। ক্রীড়ার সবুজ গালিচায় শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে শুরু হলো এক নতুন স্বপ্নযাত্রা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের আগামী দিনের ক্রীড়া তারকাদের খুঁজে বের করাই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মূল লক্ষ্য। দেশের বিভিন্ন বিভাগ থেকে আগত ৩২ জন শীর্ষ ক্রীড়াবিদ ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে শিশুদের অনুপ্রাণিত করতে এসেছেন। এখান থেকেই উঠে আসবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়।”

আলোচনা সভা শেষে সারাদেশের মতো খাগড়াছড়িতেও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর লোগো ও ট্রফি উন্মোচন করা হয়। পরে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় আয়োজনের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নেয় মাটিরাঙ্গা ও মহালছড়ি উপজেলার বালক ও বালিকা দল। বালিকা বিভাগে মহালছড়ি উপজেলা ১-০ গোলে মাটিরাঙ্গাকে হারিয়ে জয় তুলে নেয়। অন্যদিকে বালক বিভাগের রুদ্ধশ্বাস লড়াই নির্ধারিত সময়ে ড্র হলে টাইব্রেকারে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ৪-৩ গোলে মহালছড়িকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করে।

জানা গেছে, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ক্রীড়া পরিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যার তত্ত্বাবধানে রয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

এবারের আসরে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, মার্শাল আর্ট এবং সাঁতার,এই আটটি জনপ্রিয় খেলায় অংশ নিচ্ছে খুদে ক্রীড়াবিদরা।

গত ২৮ এপ্রিল জেলার ৯টি উপজেলা ও একটি পৌরসভা থেকে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ৮টি ইভেন্টে মোট ১ হাজার ৪৪০ জন প্রতিযোগীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়। অংশগ্রহণকারী ইউনিটগুলো হলো—খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা, পানছড়ি, গুইমারা, মানিকছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি, রামগড়, মহালছড়ি, দীঘিনালা এবং খাগড়াছড়ি পৌরসভা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রুমানা আক্তার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া সুলতানা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য, জেলা ক্রীড়া অফিসার হারুন-অর-রশিদ, ক্রীড়া সংগঠক মো. নজরুল ইসলাম, বিসিবি কাউন্সিলর আনিসুল আলম আনিকসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক ও সুধীজন।

জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ আয়োজন ঘিরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। ক্রীড়াঙ্গনে নতুন তারকা তৈরির এই উদ্যোগ খাগড়াছড়িতে ক্রীড়া জাগরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। পাহাড়ের বুক থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠবে নতুন প্রজন্ম,এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন