রিজাংসি চাকমাকে মারধরের ঘটনায় যা বললেন সর্বমিত্র চাকমা


দুর্গম সাজেক এলাকার বাসিন্দা রিজাংসি চাকমাকে মারধরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা।
মঙ্গলবার ( ১৯ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে উদ্বেগ প্রকাশ করে উক্ত নারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।
পার্বত্যনিউজের পাঠকদের জন্য সর্বমিত্রেরর পোস্টটি দেওয়া হলো।
সম্প্রতি “রিজাংসি চাকমা” নামের এক নারীর ভিডিও দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি দুর্গম সাজেক এলাকার বাসিন্দা। তার ভিডিওগুলোতে তার গ্রামের সুবিধা-অসুবিধার কথা উঠে এসেছে।
জাতিকে শিক্ষিত করতে তার তাড়না দেখে আমি মুগ্ধ। পাহাড়ের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষকদের অনেকেই এক বিশেষ বাজে কালচার প্র্যাকটিস করেন
“শ্যাডো টিচার বা ছায়া শিক্ষক”
অর্থাৎ, দুর্গম এলাকায় পোস্টিং হলে অনেকে চার-পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে স্থানীয় অল্প শিক্ষিত কাউকে তার হয়ে পড়ানোর দায়-দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে মাসের পর মাস বাসায় বসে বেতন গুনেন।
এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের পাহাড়ের ক্ষুদে বুনোফুলগুলো। তাদের নামকরা বিজ্ঞানী , গবেষক , চিকিৎসক , প্রকৌশলী কিংবা অর্থনীতিবিদ সমাজবিজ্ঞানী , রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হবার কথা। কিন্তু , নানা প্রতিকূলতা তাদের সেই আলোর যাত্রাকে প্রতিহত করছে। আমাদের পাহাড়ের বুনোফুলগুলো প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে দেশ ও জাতির নাম উজ্জ্বল করবে।
রিজাংসি চাকমা তার ভিডিওতে নিজ গ্রামের স্কুলে এমন বেহালদশার কথা তুলে ধরেছেন। সাথে তার গ্রামের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে মারধর করা হয়, সামাজিক মাধ্যমে তিনি তার পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন। এমন ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
পাহাড়ের প্রতিবন্ধকতা দূর হোক , আমাদের পাহাড়ের বুনোফুলেদের ভবিষ্যত যেন প্রাকৃতিক কিংবা কৃত্রিম কোনো প্রতিবন্ধকতায় আটকে না থাকে , তা নিশ্চিতের দায় দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

















