যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে মধ্যস্থতার জন্য পাকিস্তানকে ভূয়সী প্রশংসা চীনের

fec-image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত অবসানের লক্ষে পাকিস্তানের ‘গঠনমূলক মধ্যস্থতার’ তীব্র প্রশংসা করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার (২৫ মে) বেইজিংয়ে সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ প্রশংসা জানান।

বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শাহবাজ শরিফকে চীনের একজন ‘পুরোনো বন্ধু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তান যে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে, চীন তার প্রশংসা করে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, চীনের প্রতিবেশী কূটনৈতিক নীতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ককে সবসময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং দুই দেশের এই ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব ‘অটুট’।

চার দিনের সরকারি সফরে গত শনিবার চীনে পৌঁছান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সোমবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ শি জিনপিংয়ের সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে তিনি চীনের প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, এই সফরে শাহবাজ শরিফের সাথে বেইজিংয়ে উপস্থিত রয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তিনি মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন। বেইজিং সফরের ঠিক আগেই গত শুক্র ও শনিবার আসিম মুনির এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি তেহরান সফর করেন এবং ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের বিষয়ে আলোচনা করেন।

চীনা নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে শাহবাজ শরিফ বলেন, “বিশ্ব বর্তমানে একটি অত্যন্ত সংকটাপন্ন মুহূর্ত পার করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে পাকিস্তান আন্তরিক ভূমিকা পালন করেছে এবং পরিস্থিতি এখন সঠিক দিকে এগোচ্ছে।” শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য তিনি চীনকে ধন্যবাদ জানান।

চলতি বছরের শুরুতে শুরু হওয়া এই সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে একটি পাঁচ-দফা শান্তি প্রস্তাব নিয়েও কাজ করছে; যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিরতি, সংলাপ, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌযান চলাচল এবং বেসামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইরান, চীন, পাকিস্তান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন