বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই সাংস্কৃতিক স্বকীয়তার মূল ভিত্তি : তথ্যমন্ত্রী

fec-image

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই আমাদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্বকীয়তার মূল ভিত্তি।

তিনি বলেন, ‘৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও অনেকে বাংলায় কথা বলতে পারেন, তবে আমাদের মনোজগত ও সংস্কৃতির মধ্যে একটি মৌলিক ঐতিহাসিক পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যকে যারা আড়াল করতে চান তারা হয় বোকা, না হয় কোনো সুদূরপ্রসারী দুরভিসন্ধি নিয়ে কাজ করছেন।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে ‘দেশ পুনর্গঠনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে গঠিত নতুন আত্মপ্রকাশকৃত সংগঠন ‘আমরা বাংলাদেশি’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৫৬ হাজার বর্গমাইলের কোনো বাঙালিকে তার বাঙালিত্বের সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য সীমান্তের ওপারে অন্য কারো কাছে ধার করতে হবে না।’

তিনি ইতিহাসের বিবর্তন তুলে ধরে বলেন, জাত-পাতের কাঠামোর কারণে এ অঞ্চলে সনাতন ধর্মের পর বৌদ্ধ ধর্ম এবং পরবর্তীতে ইসলামের সাম্যবাদের আলোকে এ দেশের মানুষ যেভাবে দলে দলে ধর্মান্তরিত হয়ে পবিত্র কোরআনকে গ্রহণ করেছেনÑতা এক ঐতিহাসিক সত্য। এই বিবর্তনই আমাদের সংস্কৃতিকে একটি অনন্য স্বকীয়তা দিয়েছে, যার নাম ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইতিহাসের এই সত্যকে উন্মোচিত করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন, যা আমাদের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে স্পষ্ট করে দেয়।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে ও বিপক্ষের যে সাজানো ও কৃত্রিম মেরুকরণ, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ তা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। স্বৈরাচারী আমলে দেশের রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে মেরুকরণ করতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশ যখন সংকটে ছিল, তখন তারেক রহমান প্রবাস জীবন থেকেই স্লোগান তুলেছিলেন- ‘দেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে’। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজপথেই স্বৈরাচারের ভবিষ্যৎ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে যারা বিকৃতি ঘটাতে চায় কিংবা কৃত্রিম চরিত্র তৈরি করে বিশাল নেতা হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়, তাদের পরিণতি ভালো হয় না। ইতিহাস যখন সঠিকভাবে কথা বলে, তখন বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে চড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা জনগণকে বাদ দিয়ে নির্বাচনকে অন্ধকার গলিতে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন, তাদের সমস্ত চক্রান্ত নস্যাৎ করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইতিহাসের অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমরা আদায় করতে পেরেছি। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এখন জনগণের পরিচ্ছন্ন ম্যান্ডেটের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার সেই ম্যান্ডেট নিয়েই কাজ করছে। ফলে দেশের পার্লামেন্ট অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে একটি কার্যকর ও ‘ভাইব্রেন্ট পার্লামেন্ট’ হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক ক্ষেত্রে ‘সার্ক’-ই হবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মূল ভিত্তি। সার্কের ২২০ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার বাইরে অন্য কোনো শক্তির ওপর ভর করে কৃত্রিম আঞ্চলিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হলে, তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হবে।

বিএনপি নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে এবং তমিজ উদ্দিন টিটুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মোমিনুল আমিন ও বিএনপি নেতা মো. রাশেদ খাঁন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: তথ্যমন্ত্রী
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন