মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার সাহিত্যকর্মে আলোকপাত

খাগড়াছড়িতে মনীষী স্মরণে ব্যতিক্রমী আয়োজন

fec-image

পার্বত্য জনপদের ইতিহাস, ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকপ্রাপ্ত লেখক ও গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা’র সাহিত্যকর্ম, গবেষণা ও জীবনদর্শন নিয়ে খাগড়াছড়িতে এক বর্ণাঢ্য মতবিনিময় সভা, গান পরিবেশন ও কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবে মনীষীদের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি এ আয়োজন করে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৫টায় ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যোহ্লা মং। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনাও তিনি পরিচালনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। সঞ্চালনায় ছিলেন ভ্যালেন্টিনা ত্রিপুরা।

এ সময় মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার সাহিত্যকর্ম, গবেষণা, ভাষা আন্দোলন এবং আদিবাসী সংস্কৃতি সংরক্ষণে তাঁর অসামান্য অবদান নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বান্দরবান সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক বিপম চাকমা। তিনি তাঁর প্রবন্ধে বলেন, মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা শুধু একজন লেখক নন, তিনি পার্বত্য অঞ্চলের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক নিরলস গবেষক এবং সংগ্রাহক। তাঁর লেখনী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজেদের শিকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে সহায়তা করবে।

আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার সাহিত্য ও গবেষণাকর্ম পার্বত্য চট্টগ্রামের বহু অজানা ইতিহাস, লোকজ সংস্কৃতি এবং মাতৃভাষাভিত্তিক জ্ঞানচর্চাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর সৃষ্টিশীল ও গবেষণামূলক কাজ আগামী দিনের গবেষক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ইলিরা দেওয়ান, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরণ চাকমা, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও গবেষক প্রভাংশু ত্রিপুরাসহ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ, পাহাড়ের বিশিষ্ট কবি, লেখক, গবেষক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে আলোচনা সভার পাশাপাশি মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার সাহিত্যকর্ম ও সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সংগীত পরিবেশন এবং কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা গভীর আগ্রহ ও আবেগের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ আজ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার মতো গবেষক ও সাহিত্যিকদের কর্ম ও চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের জীবন ও কর্মের চর্চা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয় এবং তাঁর সাহিত্য ও গবেষণাকর্ম নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা ও প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন