টানা বর্ষণে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

fec-image

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত বান্দরবান। শহরে সঙ্গে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। জেলার বিভিন্ন সড়কে পাহাড়ধস ও সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দূরপাল্লার যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন।

টানা চারদিন ধরে ভারী বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল লামা আজিজনগরে পাহাড় ধ্বসে একই পরিবার স্বামী-স্ত্রীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। বৃষ্টির পানি অব্যাহত থাকায় কোথাও সড়কের ওপর মাটি ও গাছ পড়ে আছে, আবার কোথাও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সড়ক তলিয়ে গেছে।

এসব কারণে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম এবং জেলার কয়েকটি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সড়ক বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্থানে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়েছে। অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ মাঝপথেই অপেক্ষা করছেন। এতে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষও ভোগান্তিতে পড়েছেন। বর্ষার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। কাঁচা সবজি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েছে স্থানীয়রা। তবে কাঁচা বাজারে দাম বৃদ্ধি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় সকাল ছয়টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে ১৩১ মিলিমিটার। আর গত পাঁচদিনের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে ৮৯১ মিলিমিটার। সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি কমলেও এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করছে। গত ২৪ ঘন্টায় কোথাও ভারী ও মাঝারি ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা শহরে বনরুপা, কালাঘাটা, বড়ুয়া টেকসহ উপজেলা গুলোতেও পাহাড় কেটে বসতঘর স্থাপন করছে নিম্ন আয়ের মানুষজন। এতে বর্ষা মৌসুম আসলে পাহাড় ধ্বসে ঘটছে দুর্ঘটনা। আর এতে প্রাণ হারায় ঝুকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী। পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উদ্ধার ও স্থানান্তর কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

প্রশাসন তথ্য বলছে, দূর্যোগের মোকাবেলায় বান্দরবানে ২২০ টি আশ্রয় খোলা রয়েছে। সেখানে বন্য কবলিত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে পাঁচ হাজার অধিক মানুষ। তাদেরকে প্রশাসন পক্ষ থেকে খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। তবে কোন কোন এলাকায় এখনো ত্রাণ পৌছাইনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

জেলা শহরে আর্মি পাড়া, শেরেবাংলা নগর, বালাঘাটা, লেমুঝিড়ি,গোয়ালিয়াখোলাসহ আরো কয়েকটি উপজেলায় কয়েক হাজার মানুষের বাড়িঘর এখনো পানির নীচে। তবে সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি অবনতি হওয়ায় ঘরবাড়ি থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। কেউ কেউ পানি নামতে শুরু করায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করতে বাড়িতে ছুটছেন। তবে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পরিষ্কার পরিছন্নতা না থাকায় বিপাকে পড়েছে এসব বন্যকবলিত মানুষজন। তাদের অভিযোগ প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে একটি রুমে থাকতে হচ্ছে গাদাগাদি করে। আর টয়লেট অপরিষ্কার ও ঔষধ সরবরাহসহ প্রতিটি কাজে ভোগান্তি কথা জানান তারা।

উজানী পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়া রনি বড়ুয়া, সাগরিকাসহ কয়েকজন বলেন, বন্যা বাড়ি ডুবে গেছে। পরিবার নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। কিন্তু এখানে দেখি টয়লেট অপরিষ্কার, ময়লা ভাঙ্গার,মশা মাছিসহ নানা সমস্যা সম্মুখীন হচ্ছি। সড়ক জুড়ে পানি বাড়ার কারণে যা যাতায়াতের সমস্য হয়েছে। কোথাও পাহাড় ধ্বসে সড়ক বন্ধ, ধাপে ধাপে নৌকা করে পাড় হওয়া। সবকিছু মিলে নানা ভোগান্তি মধ্যে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে৷ একই সাথে যারা পাহাড়ে পাদদেশে বসবাস করছে তাদের সরিয়ে নিয়ে প্রশাসনের মাইকিং করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বন্যকবলিত মানুষদের খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে দেয়া হচ্ছে৷ আর সম্মিলিত প্রয়াসে মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবেলায় করতে যা যা কর্যক্রম রয়েছে সেটি অব্যাহত রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, বান্দরবান, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন