আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল ও নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদনে আইনি প্রতিবন্ধকতা


অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৫ আগস্ট ২০২৪ ক্ষমতা গ্রহণের পর জনমনে একটি প্রবল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল যে, বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত অসম বা জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তিগুলো- বিশেষ করে আদানি বিদ্যুৎ চুক্তি বা ভারতের সাথে সম্পাদিত কৌশলগত চুক্তিগুলো বাতিল বা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। একইসাথে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামো ঢেলে সাজাতে নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের দাবিও উঠেছিল। কিন্তু আইনি, সাংবিধানিক এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির বাস্তবতায় এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ প্রায় অসম্ভব প্রমাণিত হয়েছে।
একজন অতি নগন্য মানুষ হিসেবে এই আর্টিকেলে বিশ্লেষণ করা হলো কেন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইলেই পূর্ববর্তী সরকারের চুক্তি বাতিল করতে পারে না, কিংবা নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারে না।
১। সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজনীয়তার মতবাদ (Constitutional Limitations & Doctrine of Necessity)
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা এবং চুক্তি সম্পাদনের এখতিয়ার একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে।
সংবিধানের ১৪৫ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করতে হয় এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করেন। একটি অন্তর্বর্তীকালীন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো সংসদীয় ভিত্তি থাকে না। সদ্য বিদায়ী সরকারটি মূলত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে ‘প্রয়োজনীয়তার মতবাদ’ বা Doctrine of Necessity-এর অধীনে গঠিত হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং একটি অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ম্যান্ডেট বা এখতিয়ার অত্যন্ত সীমিত। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় (আব্দুল মান্নান খান বনাম বাংলাদেশ) এবং আনুষঙ্গিক সাংবিধানিক নজিরগুলো প্রমাণ করে যে, একটি অনির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রের মৌলিক নীতিগত পরিবর্তন (Substantive Policy Change) সাধন করতে পারে না।
পূর্ববর্তী সরকারের সম্পাদিত কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল করা বা নতুন কোনো বৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নীতির অংশ, যা কেবল একটি নির্বাচিত সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষেই আইনি বৈধতা পেতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম আইন প্রণয়ন বা নীতি-নির্ধারণী ক্ষমতার অধিকারী নয়, বরং তারা ‘সীমিত ম্যান্ডেট’-এর অধীনে পরিচালিত হয়।
২। রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার মতবাদ এবং প্যাক্টা সান্ট সারভান্ডা (Doctrine of State Continuity & Pacta Sunt Servanda)
আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক ভিত্তি হলো ‘রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার মতবাদ’ (Doctrine of State Continuity)। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় দুটি ‘রাষ্ট্রের’ মধ্যে, দুটি ‘সরকারের’ মধ্যে নয়।
সরকার পরিবর্তন, এমনকি বিপ্লব বা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটলেও, রাষ্ট্রের আইনি সত্তা অপরিবর্তিত থাকে। বিখ্যাত টিনোকো আর্বিট্রেশন (Tinoco Claims Arbitration, Great Britain v. Costa Rica, 1923) মামলায় এই নীতিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে, অগণতান্ত্রিক বা অবৈধভাবে ক্ষমতাসীন সরকার কর্তৃক সম্পাদিত চুক্তিও পরবর্তী বৈধ সরকারকে মেনে চলতে হয়, যদি না তা আন্তর্জাতিক আইনের কোনো মৌলিক নীতি বা Jus Cogens লঙ্ঘন করে।
ভিয়েনা কনভেনশন অন দ্য ল অফ ট্রিটিজ (Vienna Convention on the Law of Treaties – VCLT) ১৯৬৯-এর ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘প্যাক্টা সান্ট সারভান্ডা’ (Pacta Sunt Servanda) নীতি অনুযায়ী, প্রতিটি কার্যকর চুক্তি পক্ষগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক এবং তাদেরকে অবশ্যই সরল বিশ্বাসে (in good faith) তা পালন করতে হবে। এই কনভেনশনের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র চুক্তির বাধ্যবাধকতা এড়াতে তার অভ্যন্তরীণ আইনের অজুহাত দেখাতে পারে না।
ফলে, শেখ হাসিনা সরকারের পতন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই আইনি অধিকার দেয় না যে তারা একতরফাভাবে পূর্ববর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক চুক্তিগুলো বাতিল ঘোষণা করবে। একতরফা চুক্তি বাতিলের পরিণতি আন্তর্জাতিক আইনে গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে পরিগণিত হয়।
৩। বাণিজ্যিক ও সার্বভৌম চুক্তির বাধ্যবাধকতা (Binding Nature of Commercial & Sovereign Agreements)
আদানি পাওয়ারের সাথে সম্পাদিত চুক্তি বা অনুরূপ বৃহৎ অবকাঠামোগত চুক্তিগুলো কেবল সাধারণ ক্রয় চুক্তি নয়, এগুলো জটিল আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোতে আবদ্ধ। এই ধরনের চুক্তিতে সাধারণত Sovereign Guarantee বা সার্বভৌম নিশ্চয়তা দেওয়া থাকে। অর্থাৎ, রাষ্ট্র নিজে এই চুক্তির আর্থিক দায়বদ্ধতা গ্রহণ করে।
এই চুক্তিগুলোতে কঠোর Arbitration Clause বা আন্তর্জাতিক সালিশি ধারা সংযুক্ত থাকে, যা সাধারণত সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আর্বিট্রেশন সেন্টার (SIAC), লন্ডন কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল আর্বিট্রেশন (LCIA) অথবা বিশ্বব্যাংকের ইনভেস্টমেন্ট ডিসপুট সেটেলমেন্ট সেন্টারের (ICSID) এখতিয়ারভুক্ত হয়। বাংলাদেশ যদি একতরফাভাবে আদানি চুক্তি বাতিল করে, তবে আদানির পক্ষ থেকে বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।
পূর্বের নাইকো (Niko) বা শেভরন (Chevron) আর্বিট্রেশনের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, চুক্তি ভঙ্গের দায়ে রাষ্ট্রকে বিলিয়ন ডলারের জরিমানা গুনতে হতে পারে।
অধিকন্তু, চুক্তি বাতিল করলে বাংলাদেশের ‘সভরেন ডিফল্ট’ (Sovereign Default) বা ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। মুডি’স (Moody’s) বা এসঅ্যান্ডপি’র (S&P) মতো আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের রেটিং কমিয়ে দেবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ গ্রহণ, লেটার অব ক্রেডিট (LC) খোলা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
৪। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈশ্বিক রীতিনীতি
তুলনামূলক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিশ্বব্যাপী অন্তর্বর্তীকালীন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলোর কার্যপরিধি নিয়ে সুনির্দিষ্ট রীতিনীতি রয়েছে, যা ‘লেম-ডাক গভর্নমেন্ট রেস্ট্রেইন্ট’ (Lame-duck government restraint) নামে পরিচিত।
উদাহরণস্বরূপ, পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩০ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেবল দৈনন্দিন কার্যাবলি পরিচালনা করবে এবং কোনো বৃহৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত, বড় ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি বাধ্যবাধকতা তৈরি করে এমন কাজ থেকে বিরত থাকবে।
মিশর বা সুদানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারগুলোর ক্ষেত্রেও একই চর্চা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং দাতা সংস্থাগুলো (যেমন আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংক) এই ধরনের সরকারের কাছ থেকে কেবল স্থিতিশীলতা এবং রুটিন প্রশাসনিক কাজ আশা করে। তারা এমন কোনো পদক্ষেপ সমর্থন করে না যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের নীতি নির্ধারণের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে।
ফলে, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এড়িয়ে চলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য কেবল একটি নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি আইনি বাধ্যবাধকতাও বটে।
৫। প্রতিরক্ষা ক্রয় চুক্তির সীমাবদ্ধতা (Defense Procurement Constraints)
নতুন কোনো বৈদেশিক রাষ্ট্রের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি (Defense Procurement Agreements) সম্পাদনের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সীমাবদ্ধতা আরও প্রকট। প্রথমত, সামরিক চুক্তিগুলো কেবল অস্ত্রের ক্রয়-বিক্রয় নয়, এগুলো গভীরভাবে ভূ-কৌশলগত এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক মিত্রতার পরিচায়ক। একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যেহেতু কোনো রাজনৈতিক বৈধতা বা ‘ডেমোক্রেটিক ম্যান্ডেট’ নেই, তাই তারা রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে না।
দ্বিতীয়ত, বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য ব্যাপক বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন। সংসদীয় তদারকি বা Parliamentary Oversight ছাড়া এই ধরনের বিপুল অংকের অর্থের ছাড়করণ সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।
তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক অস্ত্র সরবরাহকারী রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স বা চীন) নিজস্ব ‘সাপ্লায়ার রিস্ক পারসেপশন’ (Supplier Risk Perception) থাকে। তারা একটি ক্ষণস্থায়ী বা ট্রানজিশনাল সরকারের সাথে বড় ধরনের চুক্তিতে আবদ্ধ হতে চায় না, কারণ ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে এই চুক্তি বাতিল বা অসম্মান করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা এবং আইনি সুরক্ষার অভাবেই মূলত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বড় কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করতে ব্যর্থ হয়।
৬। অভ্যন্তরীণ আইনি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা (Domestic Legal & Bureaucratic Barriers)
আন্তর্জাতিক আইনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ আমলাতান্ত্রিক কাঠামোও চুক্তি বাতিল বা নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের ‘রুলস অব বিজনেস’ (Rules of Business) অনুযায়ী যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির খসড়া বা বাতিলের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে আইনি যাচাই (Vetting) করিয়ে নিতে হয়। চুক্তির আর্থিক সংশ্লেষ থাকায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফাইন্যান্স ডিভিশনের অনুমোদনও বাধ্যতামূলক।
আমলাতন্ত্র স্বভাবতই রক্ষণশীল এবং ‘স্ট্যাটাস কো’ (Status quo) বা স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে পছন্দ করে। পূর্ববর্তী সরকারের চুক্তি বাতিল করলে পরবর্তীতে বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতিপূরণের দায়ভার কার ওপর বর্তাবে, সেই আশঙ্কায় আমলারা ফাইল আটকে দেন।
এছাড়া, অডিট আপত্তি এবং ভবিষ্যতে জবাবদিহিতার (Witch-hunt) ভয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কোনো র্যাডিক্যাল সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করতে চান না। এই দীর্ঘ এবং জটিল ‘ফাইল অ্যাপ্রুভাল চেইন’ যেকোনো বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতরেই শ্লথ করে দেয়।
৭। ভূ-রাজনৈতিক চাপ ও কৌশলগত ভারসাম্য (Geopolitical Pressure & Strategic Balancing)
আইন ও সংবিধানের বাইরে ভূ-রাজনীতির বাস্তবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক শক্তির প্রভাব বলয়ের বাইরে নয়। আদানি চুক্তি বা ভারতের সাথে সম্পর্কিত অন্য কোনো কৌশলগত চুক্তি বাতিলের অর্থ কেবল একটি কর্পোরেট চুক্তি বাতিল নয়, বরং ভারতের মতো একটি শক্তিশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে সরাসরি কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়ানো।
নয়াদিল্লির সাথে পানি বণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মতো ক্রিটিক্যাল বিষয়গুলো জড়িত।
একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যার প্রাথমিক লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে না যা তাদের অস্তিত্বের জন্যই হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়াবে।
পশ্চিমা বিশ্ব এবং চীনের মতো বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোরও নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। বাহ্যিক এই ত্রিমুখী চাপ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে একটি ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ (Strategic Balancing) বজায় রাখতে বাধ্য করে, যার ফলে তারা পূর্ববর্তী সরকারের চুক্তিগুলো মেনে চলতে এবং নতুন কোনো বিতর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তিতে জড়ানো থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়।
সর্বশেষ সার্বিক বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিতর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল না করা বা নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদনে ব্যর্থ হওয়া কোনো নিছক রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব নয়।
এটি মূলত সাংবিধানিক এখতিয়ারের অভাব, প্যাক্টা সান্ট সারভান্ডা বা চুক্তির প্রতি বিশ্বস্ততার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা, আর্বিট্রেশনের ভয়ংকর আর্থিক ঝুঁকি এবং ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার এক জটিল আইনি ও প্রশাসনিক জালের ফসল।
আবেগের বশবর্তী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়, আন্তর্জাতিক আইনের নিষ্ঠুর বাস্তবতায়, রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই আইনি ও কৌশলগত শৃঙ্খলের মাঝেই তাদের সীমিত দায়িত্ব পালন করতে হয়।
উৎস : ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম (ডিআরএফ) ফেইসবুক পোস্ট, ৭ এপ্রিল ২০২৬

















