চলে গেলেন প্রখ্যাত বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার


বাউল সংগীতের প্রখ্যাত শিল্পী সুনীল কর্মকার শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করা সুনীল কর্মকার কেবল একজন গায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধিক বাদ্যযন্ত্রের পারদর্শী—বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়াম বাজাতে দক্ষ ছিলেন তিনি। সংগীতের জগতে আসার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন বিখ্যাত বাউল শিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁ। তার গানের সুরে সুনীল কর্মকার নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন এবং ওস্তাদের বহু জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দেন।
এছাড়া সুনীল কর্মকার প্রায় ২০০টি গান লিখেছেন এবং গেয়েছেন, যার মধ্যে বেশ কিছু গান একে একে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তার গাওয়া গানে প্রতিফলিত হত জীবনদর্শন, মানবপ্রেম ও স্রষ্টার প্রতি গভীর ভক্তি।
গ্রামবাংলার লোকসংগীতের ধারক হিসেবে সুনীল কর্মকারের কণ্ঠ ও একতারা-দোতারা ছন্দে শ্রোতাদের মুগ্ধ করত। তার প্রয়াণে এক খাঁটি বাউল ও লোকসংগীত শিল্পীকে হারাল আমরা।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সুনীল কর্মকার দীর্ঘকাল ধরে বাউল ও লোকসংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন।
আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করি।
















