পদোন্নতি না পেয়ে অবসরের ঘোষণা সিআইডি প্রধানের


পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডিআইজি আলি আকবর খান অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি না পাওয়ায় স্বেচ্ছায় অবসর-পূর্ব ছুটি (পিআরএল) গ্রহণের আবেদন করেছেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিলেও পুলিশ সদর দফতর এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পাঁচজন ডিআইজিকে অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড-২) পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। তবে তালিকায় আলি আকবরের নাম না থাকায় তার ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে তিনি পিআরএলের আবেদন করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন পুলিশ সদর দফতরের আদেশে আলি আকবর খানকে সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান করা হয়। প্রশাসনিক পর্যায় থেকে তাকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে সিআইডির প্রধান করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল বলেও জানা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত পদোন্নতি হয়নি। তার আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে কি না এবং তিনি দায়িত্ব ছাড়ছেন কি না—সে বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি ঘোষণা আসেনি।
নিজের স্বাক্ষরিত আবেদনে আলি আকবর উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম সদস্য হিসেবে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হন এবং ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল চাকরিচ্যুত হন। প্রায় ১৬ বছর চাকরির বাইরে থাকার পর ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পুনর্বহাল হন। তিনি জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর চাকরিতে ফেরার সুযোগ পাওয়ায় নিহত ও আহতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।বাংলাদেশ সংবাদ বিশ্লেষণ
আবেদনে সিআইডি প্রধান আরো বলেন, পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে নাম না থাকায় তিনি মনে করছেন কোনো অযোগ্যতার কারণে আবারো বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তাই সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করতে চান।
তিনি আগামী ২ জুলাই থেকে চাকরি থেকে অবসর এবং ওই তারিখ থেকে এক বছরের পিআরএল মঞ্জুরের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে আবেদন করেছেন। একই দিন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ এ এম হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে তার আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।















