টেকনাফে করিম উল্লাহ খুন, মামলা সিআইডিতে হস্তান্তর


টেকনাফে আলোচিত হাজী করিম উল্লাহ খুনের মামলাটি অবশেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়েছে। গত বছর ১১ ডিসেম্বর ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অ্যাডিশনাল ডিআাইজি (ক্রাইম রেঞ্জ) মোহাম্মদ শাহ জালাল স্বাক্ষরিত পত্রে উল্লেখ করা হয় তদন্তভার আদিষ্ট হয়ে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হলো।” এই আদেশের পরপর সিআইডি কক্সবাজার অফিসের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদাত হোসেন মামলাটি তদন্তভার গ্রহণ করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে মামলার ডকেট সংগ্রহ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ নিবিড়ভাবে এই খুনের রহস্য উন্মোচনে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক শুরু করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম জানান, ‘আলোচিত এই খুনের মামলাটি এক বছরেরও অধিক সময় ধরে টেকনাফ মডেল থানার একজন উপ-পরিদর্শক তদন্ত কার্যাক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন এবং ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনকে আটকও করেছে। মামলাটি আরো বেশি গভীর হলে তদন্তের জন্য সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করায় এ খুনের আসল রহস্য উন্মোচন ও প্রকৃত খুনিরা চিহ্নিত হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন টেকনাফ পৌর সভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল বশর নুরশাদ ও নিহতের ভাই হাজী আমান উল্লাহ।
এ ঘটনায় প্রথমে শনিবার (২০২১ সালের ৩০ অক্টোবর) খুনের অন্যতম মাস্টার মাইন্ড ও নিহতের জামাতা (আপন মেয়ের স্বামী) মোহাম্মদ হোসেনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তারেক বুধবার (৩ নভেম্বর-২০২১) কক্সবাজার আদালত ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে দু’দিন মঞ্জুর করে। দু’দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদও করে তদন্ত কর্মকর্তা।
এ ঘটনার সাথে জড়িত অটোরিকসা চালক এমরান(২৭)-কেও ( ১ নভেম্বর-২০২১) আটক করে পুলিশ। সে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মাঠ পাড়া গ্রামের মো. আয়ুবের ছেলে। তবে তাদের বেশি দিন কারাগারে থাকতে হয়নি। মামলা পরিচালনায় বাদীর উদাসীনতা, তদন্ত কর্মকর্তার সময় ক্ষেপণ ও নানাবিধ কারণে আটক আসামি উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে বের হয়ে আসে। এরমধ্যে অতি সংগোপনে নিহতের জামাতা মোহাম্মদ হোসেন দুবাইয়ে পাড়ি জমান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফ পৌর সভার ৯নং ওয়ার্ডের মৃত হাজী সাব্বির আহমেদের ছেলে হাজী করিম উল্লাহর মৃতদেহ গত ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের কচ্ছপিয়া ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি আগের দিন ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে মেয়ের ঘরে দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়ে যান। এ সময় তার মোবাইল বন্ধ ছিল। পরের দিন সকালে অজ্ঞাত মৃতদেহ হিসেবে পুলিশ উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর মর্গে প্রেরণ করে। ওই দিন সন্ধ্যায় পরিবার তার লাশ সনাক্ত করে। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে নিহত হাজী করিম উল্লাহর জানানা শেষে টেকনাফ পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। গত ২০২১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর স্ত্রী মুরশিদা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে। এরপর থেকে টেকনাফ মডেল থানার এসআই তারেক রহস্যময় এ মামলার তদন্ত কাজ শুরু করেন।
জানা যায়, হাজী করিম উল্লাহ ওই দিন রাতে নাস্তাসহকারে আপন মেয়ের ঘরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মাঠ পাড়ায় দাওয়াতে অংশ নেন। সেখান থেকে অটোরিকসাযোগে ফেরার পথে খুনের শিকার হন। কিন্তু এ বিষয়টি প্রথম থেকেই ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করে হাজী করিম উল্লাহর স্ত্রী ও জামাতা। এ থেকে অনেকে সন্দেহের তীর ছুড়ে যে, এই খুনের মাস্টার মাইন্ড স্ত্রী ও মেয়ের জামাতা। কিন্তু স্ত্রী মামলার বাদী হওয়ায় পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে মামলার তদন্ত কাজ পরিচালনা করে। তথ্য প্রযুক্তি, মোবাইল ট্র্যাকিং ইত্যাদির মাধ্যমে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা হাজী করিম উল্লাহর খুনের মাস্টার মাইন্ড হিসেবে আপন মেয়ের স্বামী মোহাম্মদ হোসেনকে চিহ্নিত করে। পরে অবশ্য ওই দিন রাতে মেয়ের ঘরে দাওয়াতে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে তারা। মামলার প্রায় দেড় মাসের মধ্যে তাকে আটক করে রহস্যের দ্বার উন্মোচন করে মামলার চার্জশিট দিতে পারেনি তদন্ত কর্মকর্তা ।

















