টানা বর্ষণে বান্দরবানের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগে বিচ্ছিন্ন

Bandarban pic-24.6.2015

স্টাফ রিপোর্টার:
টানা তিন দিনের বর্ষনে বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে সাড়াদেশের সাথে বান্দরবানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে পাহাড় ধসের কারণে রুমা উপজেলার সাথে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এবং সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে থানছি উপজেলার পর্যটন স্পট তিন্দু ও রেমাক্রির নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাংঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবান-কেরেনীর হাট প্রধান সড়ক তালিয়ে গেছে। সড়কের নিন্মাঞ্চল বাজালিয়া ও বরদুয়ারা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় বান্দরবানের সাথে বুধবার ৩টার পর থেকে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

পরিবহণ শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানায়, টানা তিনদিনের ভারী বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কের বাজালিয়ার ও বরদুয়ারার কলঘর এলাকায় কয়েকটি স্থানে সড়কে ২-৩ ফুট পানি প্লাবিত হচ্ছে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়কের দু’পাড়ে আটকরা পড়েছে অনেকগুলো যানবাহন। রিক্সা ভ্যান ও রিক্সায় করে চলাচল করছে আটকা পড়া লোকজনেরা।

পূরবী বাস সার্ভিসের কাউন্টার ম্যানেজার প্রিয়তোষ বলেন, বাজালিয়া ও কলঘর এলাকায় প্রধান সড়কে বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার সড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ঝুকি নিয়ে সকালে কিছুকিছু বাস চলাচল করলেও দুপুরের পর থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে পাহাড় ধসের কারণে বান্দরবানের রুমা, লামা-সূয়ালক, আজিজনগর-গজালিয়া অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

নদী পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপদজনক হওয়ার কারণে বুধবার থেকে জেলার থানছির নৌঘাট থেকে কোনো নৌযান দুর্গম তিন্দু ও রেমাক্রীর উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায়নি। উক্ত পর্যটন স্পটগুলোতে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার ফলে নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় ও পর্যটকরা।

থানছি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর আলী বলেন, বর্ষা মৌসুমে থানছির তিন্দু, রেমাক্রি বড়মদক, ছোটমদক ও নাফাকুম ভ্রমণ থেকে পর্যটকদের বিরত থাকা উচিত।

এদিকে টানা বর্ষণে বান্দরবানে পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ে ঝুকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বান্দরবান শহরের বেশ কিছু নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নিন্ম আয়ের জনসাধারন আশ্রয় নিয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন