এ কেমন শত্রুতা !

নাইক্ষ্যংছড়িতে সন্ত্রাসী কায়দায় দিনদুপুরে বাগানের গাছ কেটে সাবাড়

fec-image

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে দিনদুপুরে সন্ত্রাসী কায়দায় এক নিরীহ ব্যক্তির ২ একর আকাশমনি গাছের বাগান কেটে সাবাড় করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ৮ আগষ্ট শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বাইশারী ইউনিয়নের ২৭৮ নং বাইশারী মৌজার গর্জই খাল নামক এলাকার আর হোল্ডিং ২০-এর ২ একর ৫০ শতক জায়গায় মোঃ ইসলামের নিজস্ব ক্রয় কৃত ও সৃজিত আকাশ মনি বাগানে।

জমির মালিক মোঃ ইসলাম জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর যাবত জমির মালিকানা বুঝে নিয়ে আকাশমণি বাগানের চারা লাগিয়ে ভোগ দখলে আছে। হঠাৎ বাইশরী ইউনিয়নের পশ্চিম নারিচবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেনের পুত্র নুর মোহাম্মদ, এরশাদুল্লাহ, আফাজ উল্লাহর নেতৃত্বে নারী ও পুরুষ মিলে ২০/ ৩০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে দিবা লোকে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রায় দশ হাজার আকাশমনি গাছ কেটে বাগান সাবাড় করে ফেলে।
বাধা দেওয়ার কোন সুযোগ না পেয়ে বিষয়টি বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

জমির মালিক মোঃ ইসলাম জানান, আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি। সহায়-সম্বল যা ছিল এগুলো নিয়ে বাগান সৃজন করেছিলাম। আমি এখন অসহায়। ওরা আমার ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে।

ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল করিম বান্টু জানান, নুর মোহাম্মদসহ তার আত্বীয়স্বজন ঐ এলাকায় কিছু জায়গার মালিক দাবী করে আসছে। এনিয়ে শালিস-বৈঠকও হয়েছে। উভয় পক্ষের দ্বিমত থাকায় বিষয়টি সমাধান করা সম্বব হয়নি। তবে গাছ কাটার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে জানান এবং তিনি নিজেও মর্মাহত।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমির হোসেনের ছেলে নুর মোহাম্মদ জানান, আমি আমার আর হোল্ডিং নং ৫৯ খতিয়ানের জায়গায় জংগল পরিষ্কার করেছি ঐ সময় কিছু ছোট্ট ছোট্ট গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আমি কাহারো বাগানের গাছ কাটিনি।

বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি বাগানের গাছ কাটার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছেন, তবে বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা শালিস-বৈঠক হয়েছে কোনো ধরনের নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবং বিষয়টি যেহেতু জায়গা সংক্রান্ত, তাই অভিযোগকারী মোঃ ইসলামকে মহামান্য আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন