পার্বত্য মন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে যা বললেন সাংবাদিক মেহেদী হাসান পলাশ


রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পার্বত্যনিউজের সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ বলেছেন,বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্বাস্থ্যগত কারণে দায়িত্ব পালনের শৈথিল্য দেখিয়ে পদত্যাগের ঘটনা বিরল। সেই দিক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের এই পদত্যাগের ঘটনা ব্যতিক্রমী বলা যায়।
সোমবার ( ১ জুন ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে প্রথম কোন মন্ত্রী পদত্যাগের ঘটনা এটি। পদত্যাগ পত্রে তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে দায়িত্ব পালনে অপারগতার কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার এই পদত্যাগ পত্র ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছেন। তিনি যে অসুস্থ ছিলেন এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।
পার্বত্যমন্ত্রী প্রকৃতই স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করছেন কিনা উল্লেখ করে পোস্টে তিনি বলেন, মন্ত্রী প্রকৃতই স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন নাকি অন্য কোন কারণ অন্তর্নিহিত রয়েছে সেটি নিয়ে এলাকায় জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের নানা বিষয় নিয়ে পার্বত্যমন্ত্রীর উপর চাপ ছিলো জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা পরিষদ গঠন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছিল মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন পক্ষের চাপ, সুপারিশ, তদবির নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছিল। আঞ্চলিক রাজনীতির বিভিন্ন ফ্যাক্টর এবং টাকা পয়সার লেনদেনের মাধ্যমে এসব নিয়োগে মন্ত্রীর উপর প্রবল চাপ ছিল।
তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী হলেও জেলা বিএনপির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ ছিল না তেমন একটা। জেলা পরিষদ নিয়োগ নিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সেক্রেটারির মধ্যকার মত ও দ্বিমত মন্ত্রীর উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছিল। এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডেও এই দুইজনের চাপ সামলানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। এছাড়াও রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রীর এক ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তার বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডের সমালোচনা ও অসন্তোষ ছিল মন্ত্রণালয় ও এলাকায়। হতে পারে অসুস্থ দীপেন দেওয়ান হয়তো এই চাপ সামলাতে সক্ষম হচ্ছিলেন না।
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর এখন নতুন মন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদি সরকার কোনো টেকনোক্র্যাটকে এই পদে নিয়োগ না দেয়, তাহলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে বান্দরবানের সংসদ সদস্য সা চিং প্রু জেরির মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন মেহেদী হাসান পলাশ।
পোস্টের শেষে তিনি বলেন, বিসিএস বিচার বিভাগের এই সাবেক কর্মকর্তা দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার পরামর্শক্রমে তিনিও সরকারি চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন।

















