পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে ফের গ্রুপিং: সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশা
এম.জুবাইদ, পেকুয়া :
ছাত্রলীগ পেকুয়া উপজেলা শাখা কমিটি নিয়ে ফের গ্রুপিং শুরু হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, তৎকালিন জেলা কমিটির অনুমোদিত পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মমতাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জুবাইদুল্লাহ লিটনকে নিয়ে উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ায় কমিটি বিলুপ্ত করে আন্দোলন সংগ্রাম ও দল চাঙ্গা রাখার জন্য নতুন কমিটি দেয়ার চিন্তা করে জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।
এক পর্যায়ে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আলী আহমদ পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সাথে আলোচনা করে উপজেলা কমিটি দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে জেলা কমিটির সভাপতি আলী আহমদ পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হিসাবে সালাহউদ্দিন মাহামুদ এবং সাধারণ সম্পাদক আমির খোরশেদ চৌ. কে নিয়ে একটি উপজেলা কমিটি অনুমোদন দেয়। ওই অনুমোদন দেয়ার পর পরই শুরু হয় নাছির উদ্দিন বাদশা আহবায়ক ও বেলাল উদ্দিন মিয়াজী এবং শহিদুল ইসলাম যুগ্ম আহবায়ক করে পাল্টা আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আজাদ।
সেই থেকে শুরু হয় পাল্টা পাল্টি বিবৃতি, ওয়ার্ড কমিটি, ইউনিয়ন কমিটি, স্কুল কমিটিসহ বেশকিছু কর্মকান্ড। শেষ পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরী সভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি অনুমোদিত পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন মাহামুদকে। এর পরপরই সভাস্থলে শুরু হয় উপজেলা আ’লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির আহবায়ক নাছির উদ্দিন বাদশা এবং মিয়াজি গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি।
ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বর্তমান চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলম। তিনি ওই হাতিহাতি বন্ধ করার চেষ্টা করলে এক পর্যায়ে তার ওপরও চড়াও হয় বিক্ষুদ্ধ নেতারা। শেষ পর্যন্ত ওই সভা পন্ড হয়ে যায়। সেই থেকে দ্বন্ধ লেগে আছে সালাহউদ্দিন – খোরশেদ গ্রুপ এবং নাছির-বেলাল উদ্দিন মিয়াজি গ্রুপের মধ্যে। এই গ্রুপের দ্বিধাবিভক্তির কারণে চরম হতাশা নেমে আসে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে। এক পর্যায়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতি।
সবকিছুর অবসান পেরিয়ে চকরিয়া পেকুয়া আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি সাফিয়া খাতুন ও জেলা আ’লীগের নেতাদের হস্তক্ষেপে জেলা ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে নিয়ে সালাহউদ্দিন – খোরশেদ গ্রুপ এবং নাছির-বেলাল উদ্দিন মিয়াজি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্ধের অবসান ঘটে। কিছুদিন যেতে না যেতে আবারও শুরু হয় উপজেলা ছাত্রলীগের মধ্যে ফের গ্রুপি। দেখা গেছে সালাহউদ্দিন – খোরশেদ গ্রুপ এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কফিল উদ্দিন (আহবায়ক), সাবেক প্রচার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শাহেদ (যুগ্ন আহবায়ক) গ্রুপের মধ্যে ফের গ্রুপিং। এখন উপজেলা আ’লীগের বেশ কয়েকটি সভায় উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক পরিচয় দিচ্ছে কফিল উদ্দিন এবং যুগ্ন আহবায়ক পরিচয় দিচ্ছে শহিদুল ইসলাম শাহেদ।
যার ফলে বর্তমান কমিটি সালাহউদ্দিন – খোরশেদ গ্রুপের মধ্যে দ্বন্ধ চরম আকার ধারণ করছে। সালাহউদ্দিন – খোরশেদ গ্রুপের দাবী উপজেলা আ’লীগের উচ্চ পর্যায়ের গুটিকয়েক নেতার ইন্ধনে আবারও আহবায়ক কমিটি বলে প্রচার করে উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতির বদনাম বাড়াচ্ছে গুটিকয়েক অছাত্র। যাদের কোন ছাত্রত্ব নেই। তারা নেতা নয়, পদবী পরিচয় দিয়ে বড় বড় গলায় কথা বলা এবং চেয়ার পাওয়ার সুযোগ করার চেষ্টা করছে। জেলা কমিটির কোন অনুমোদন পত্র তাদের নেই।
ইতিমধ্যে সালাহউদ্দিন – খোরশেদের নেতৃত্বে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে জেলা কমিটির সভাপতি –সাধারণ সম্পাদক। এদিকে কথিত আহবায়ক কমিটি শুরু করছে নাটকীয়ভাবে ছাত্রদলের বহিস্কারকৃত এক নেতার মাধ্যমে কয়েকজন অছাত্র নিয়ে আহবায়ক কমিটি করার। আহবায়ক কফিল উদ্দিনের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে ছাত্রলীগে যোগদান করে। সূত্র জানায়, ওয়ার্ড কমিটি ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন করারও সিদ্ধান্ত নেয় এ কমিটি। ফলে দ্বিধা দ্বন্ধে পড়ে যায় সাধারণ নেতাকর্মীরা। কে কোন পক্ষে গেলে ভাল পদ পাবে এমন আশা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে সাধারণ নেতাকর্মীরা। উপজেলা আ’লীগের কাছে কে আবার বেশি গ্রহণযোগ্য এটাও চিন্তা করছে।
অপরদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কফিল- শাহেদের নেতৃত্বে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি দিয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের আজাদ। এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ ফোরকানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে এখনো কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি নেতৃবৃন্দ। এ বিষয় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন মাহামুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কফিল ও শাহেদকে নিয়ে গঠিত কমিটির কোন ভিত্তি নেই। এটি ভুয়া কমিটি।
এ ব্যাপারে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জেলা কমিটি আমাদেরকে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আলী আহম্মদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আসল কমিটি হচ্ছে সালাহউদ্দিন ও খোরশেদের নেতৃত্বাধীন কমিটি। আর যারা ছাত্রলীগের আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়ক নাম ব্যবহার করে প্রশাসন ও এলাকায় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে জেলা কমিটি আইনগত ব্যবস্থা নেবে। পেকুয়ায় কফিল ও শাহেদ নামে যে কমিটি প্রচার করছে তার কোন ভিত্তি নেই। তাদেরকে জেলা কমিটি অনুম্দোন দেয়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার পাওয়া বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

















