প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সময় চাইলেন প্রধানমন্ত্রী


নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও সরকারের মেয়াদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আড়াই মাস বয়সী একটি শিশু হাঁটতে পারে না, হাঁটার জন্য সময় দিতে হবে। আমাদের সময় দেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ অনেক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, শুধু সিলেট নয়, সারাদেশের উন্নয়ন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। সিলেট-ঢাকা রেললাইন ডাবল করার চিন্তা চলছে। সড়কপথের কাজ যাতে দ্রুত শেষ হয়, তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশের চিকিৎসা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, মানুষকে সুস্থ রাখতে পারলে রোগীর সংখ্যা কমবে। তখন তারা সঠিক চিকিৎসাসেবা পাবে। আর সে জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যারা গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন করবে। তিনি সিলেটে নতুন ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে সেটাকে ১২০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।
সিটি করপোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর উভয় পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে এ সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই সময় তিনি সুরমার তীরে দাঁড়িয়ে নদীর অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করেন।
বক্তব্যে তারেক রহমান কৃষি, পানির ব্যবহার ও কলকারখানা নির্মাণ প্রসঙ্গে বলেন, দিন দিন মাটির নিচ থেকে পানি উত্তোলনের ফলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সে জন্য পানি ধারণ করে রাখতে এবং কৃষিকাজে সহায়তার জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, দেশের সব বন্ধ কলকারখানা চালু করা হচ্ছে। সিলেটে বিদেশপ্রবণতা কমাতে এখানে কলকারখানা করা হবে। আইটি সেক্টরকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নগর ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সিসিক কর্মকর্তা সুচন্দা রায়ের পরিচালনায় বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, হুইপ জিকে গৌছ। সিটি করপোরেশনের সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ে তুলে ধরেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সিলেটের বিভিন্ন আসনের এমপি, রাজনৈতিক দলের নেতারাসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, একটি অকাট্য বাক্য হয়ে গেছে সিলেট বৈষম্যের শিকার। সেটা পুরোপুরি ঠিক নয়। সিলেটে উন্নয়ন হয়নি, সেটা বলা যাবে না। তিনি সিলেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বিদেশপ্রবণতা কমানোর কথা বলেন।
আরিফুল হক তার বক্তব্যে বলেন, আমি দুইবার সিটির মেয়র ছিলাম। তখন সরকারে ছিল আওয়ামী লীগ। আমার অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। বিশুদ্ধ পানি ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি করেন তিনি।
সুধী সমাবেশ শেষে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সদর উপজেলার বাসিয়া নদী পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এ ছাড়া বিকেল ৩টায় সিলেট স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর উদ্বোধন এবং বিকেল ৫টায় শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় জনসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ১০টার দিকে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বৃষ্টির মধ্যে তিনি ওসমানী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রওনা দেন হজরত শাহ জালাল (র.) মাজারে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মাজার জিয়ারত ও মোনাজাত করেন।
















