বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ এখন ভারত

fec-image

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ এখন ভারত। এটি অবাক করার মতো হলেও সাম্প্রতিক সময়ে World Population Review এর এক সমীক্ষায় উঠে এসছে এমন পরিসংখ্যান। ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের পরেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ভারত। আন্তর্জাতিক এই সমীক্ষার পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে সংখ্যার নিরিখে বাংলাদেশ থেকেও অনেক বেশি মুসলিম এখন ভারতে।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম (kolkata24x7) এক প্রতিবেদনে বলা হয় বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ২৪৪.৭ মিলিয়ন, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তান, যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ২৩৯.৭ মিলিয়ন। তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত, যেখানে মুসলিম জনসংখ্যার সংখ্যা প্রায় ২২৩.৩ মিলিয়ন। এই পরিসংখ্যান অনেকের কাছেই চমকপ্রদ, কারণ ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও সংখ্যার বিচারে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়,  জনসংখ্যার দিক থেকে মুসলিম প্রধান দেশ বাংলাদেশেও মুসলিমের সংখ্যা ভারতের তুলনায় কম। সমীক্ষা বলছে, বাংলাদেশে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৫৯.৭ মিলিয়ন। অর্থাৎ, মোট জনসংখ্যার শতাংশে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও সংখ্যার বিচারে ভারত অনেকটাই এগিয়ে।

এই তালিকায় ভারতের পরে রয়েছে নাইজেরিয়া (১১৮.৯ মিলিয়ন), মিশর (১১০.২ মিলিয়ন), ইরান (৮৯.৩ মিলিয়ন), তুরস্ক (৮৪.৮ মিলিয়ন), ইথিওপিয়া (৪৭.৩ মিলিয়ন) এবং ইরাক (৪৬.৭ মিলিয়ন)। বিশ্বের নানা প্রান্তে মুসলিম জনসংখ্যার এই বিস্তার ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশটির জনসংখ্যাবিদদের মতে, ভারতের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, ভৌগোলিক বিস্তার এবং প্রাকৃতিক জনবৃদ্ধি। তবে তাঁরা এটাও স্পষ্ট করে বলছেন, এই পরিসংখ্যানকে শুধুমাত্র সংখ্যা হিসেবে না দেখে সামাজিক সংহতি ও সহাবস্থানের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করা জরুরি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্য সামনে আসার পর ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। জনসংখ্যা সংক্রান্ত আলোচনা প্রায়শই রাজনৈতিক রং নেয়, তাই তথ্যের যথাযথ ব্যাখ্যা ও দায়িত্বশীল ব্যবহার অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে ভুল তথ্য বা অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন