ব্রাজিলে গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার বিলের বিরুদ্ধে নারীদের বিক্ষোভ

fec-image

ব্রাজিলের রক্ষণশীল কংগ্রেসে অগ্রসর হওয়া একটি বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে হাজার হাজার নারী।

শনিবার (১৫ জুন) সাও পাওলোর প্রধান পাউলিস্তা অ্যাভিনিউয়ে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে তারা।

বিলটি পাস হলে ২২ সপ্তাহের গর্ভাবস্থার পরে গর্ভপাতকে হত্যার সমান বলে মনে করা হবে। আর এর জন্য ছয় থেকে ২০ বছরের কারাদণ্ডের সাজার সুপারিশ করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। বিলটিকে তারা কয়েক দশকের মধ্যে নারীর প্রজনন অধিকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে নিপীড়নমূলক পদ্ধতি বলে অভিহিত করেছে। বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে অনেক অবসরপ্রাপ্ত ও শিশুসহ সব বয়সের মানুষ। তাদের হাতে থাকা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- ‘একটি শিশু মা নয়, একজন ধর্ষক পিতা নয়।’

ব্রাজিলে শুধু ধর্ষণ, ভ্রূণের বিকৃতি বা মায়ের জীবন বিপন্ন হলেই গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া হয়। বিলটি আইনে পরিণত হলে, ধর্ষণের শিকার হয়ে গর্ভধারণ করলেও, ২২ সপ্তাহ পরে গর্ভপাত করলে তা গণহত্যা হিসাবে বিবেচনা করা হবে।

নারীবাদী দলগুলো ব্রাজিলে ধর্ষকদের কঠোর শাস্তির বদলে প্রস্তাবিত আইনটির সমালোচনা করেছে।

তাদের যুক্তি, বিলটি পরিবারের সদস্যদের দ্বারা নির্যাতিত শিশুদেরকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে। কারণ শিশুরা যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে, সেটা বুঝতে না পারায় প্রায়ই তাদের গর্ভাবস্থা দেরিতে আবিষ্কৃত হয়।

বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বিলটির সমালোচনা করেছেন। ইতালিতে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে এক সংবাদ সম্মেলনে লুলা বলেন, ধর্ষকের চেয়ে একজন নারীকে বেশি শাস্তি দিতে চাওয়াটা পাগলামি।

বর্তমানে ব্রাজিলে ধর্ষকের শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন