মাটিরাঙ্গায় বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন, প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণ

fec-image

টানা বর্ষণের ফলে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ভূঁইয়াপাড়ায় একটি বসতঘর ধসে পড়েছে। বুধবার ভোররাতের দিকে ঘরটির এক-তৃতীয়াংশ সংলগ্ন ধলিয়া খালের (নদী) গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

বাড়ির মালিক অধির দাশ জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ধলিয়া খালের পাড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। ১০ শতক জায়গার ওপর নির্মিত টিনশেড বাড়িটিতে তার ছেলে অসীম দাশ, রাখাল দাশ ও লালন দাশের যৌথ পরিবারের ২০ জনেরও বেশি সদস্য বসবাস করতেন। ধসে যাওয়া টিনশেড ঘরে থাকা সদস্যরা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

একই পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত দরিদ্র। পরিবারের অধিকাংশ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে মাটিরাঙ্গা বাজারে মুচির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। হঠাৎ এই দুর্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। পাশের অপর টিনশেড ঘরটিও নদীর দিকে হেলে রয়েছে। যে কোনো সময় সেটিও ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরের দিকে উপজেলা ও পৌর বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজালাল কাজল। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তাদের সহায়তার ব্যবস্থা করেন।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহম্মেদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন।

এ সময় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবদিন সরকারসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেলে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের দুর্গম ধনিরামপাড়া ও সাদিয়াপাড়া এলাকায় দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহম্মেদ।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, যে কোনো দুর্যোগে দুর্গত মানুষের পাশে উপজেলা প্রশাসন থাকবে। তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি, বৃষ্টিপাত, মাটিরাঙ্গা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন