অবশেষে চকরিয়ায় চিংড়িজোনের কাকাড়াদিয়া প্রবহমান খালের বাঁধ অপসারণ

fec-image

তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে চকরিয়া উপজেলার চিংড়িজোনের পশ্চিম বড় ভেওলা মৌজার কাকাড়াদিয়া ডেবডেবি এলাকার মধ্যখানে প্রবহমান সরকারি খালের সেই বাঁধটি অপসারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি পানি চলাচলের খালটির মধ্যখানে মাটির বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে চিংড়ি ঘের নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিষয়টির আলোকে স্থানীয় ঘের চাষীরা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী চিংড়ি চাষীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে ওই এলাকার সরকারি খালটি আগের মতো পানি চলাচলে উন্মুক্ত করতে পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিকালে পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. আবুল মনছুর ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি ) নিদের্শেনা অনুযায়ী মাটি দিয়ে তৈরি করা সেই বাঁধটি কেটে দিয়ে পানি এবং নৌকা চলাচলের পথ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা মো. আবুল মনছুর। তিনি বলেন, উপজেলার চিংড়িজোনের পশ্চিম বড় ভেওলা মৌজার কাকাড়াদিয়া ডেবডেবি এলাকার মধ্যখানে প্রবহমান সরকারি খালে মাটির বাঁধ দিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে চিংড়ি ঘের তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএন) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি ) নিদের্শেনা দেন বাঁধটি অপসারণে।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি প্রবহমান খালে মাটি দিয়ে তৈরি করা সেই বাঁধটি কেটে দিয়ে পানি এবং নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা করি।

স্থানীয় চিংড়িঘের মালিক ও চাষীরা অভিযোগ করে বলেছেন, চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুন নবী নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র কিছুদিন ধরে থেমে থেমে স্কেভেটর গাড়ি দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণপূর্বক পশ্চিম বড়ভেওলা মৌজার ডেবডেবিস্থ পা কাটা নামক সরকারি খালটি দখলে নিয়ে সেখানে চিংড়িঘের তৈরি শুরু করে।

এ অবস্থার কারণে প্রবহমান খাল দিয়ে সামুদ্রিক লবণ পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে ডেবডেবি ও কাকাড়াদিয়া এলাকার চিংড়িঘেরে লবণাক্ত পানি ঢুকানো নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দেয়।

সরকারি খালে মাটির বাঁধ দিয়ে সামুদ্রিক লবণ পানি চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় অনুকূলস্থলের চিংড়ি চাষী উপজেলার পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের দরবেশকাটার পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মৃত মোস্তাক আহমদের ছেলে মোহাম্মদ এহেছান বাদী হয়ে গত ৫ জুন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগটিতে বিবাদী করা হয় উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ২ নং ব্লক নতুনঘোনা এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে নুরুন্নবী গংকে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, উপজেলার চিংড়িজোনের পশ্চিম বড় ভেওলা মৌজার কাকাড়াদিয়া ডেবডেবি এলাকার প্রবহমান সরকারি খালে মাটির বাঁধ দিয়ে ঘের নির্মাণের বিষয়টির সত্যতা পেয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিই।

এরই আলোকে গতকাল সেই বাঁধটি অপসারণপূর্বক সরকারি খালটি আগের মতো পানি এবং নৌকা চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এধরণের ঘটনা যদি কেউ নতুনভাবে করার চেষ্টা করে অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কাকাড়াদিয়া, খালের বাঁধ, চকরিয়ায় চিংড়িজোন
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × four =

আরও পড়ুন