অস্থিতিশীল মিয়ানমার: যুক্তরাষ্ট্রসহ ৯ দেশের উদ্বেগ


মিয়ানমার জুড়ে চলমান সংঘাত ব্যাপক রূপ ধারণ করেছে। এতে বেড়ে চলেছে সীমান্ত উত্তেজনা। এরই মধ্যে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি), মায়ানমার সেনাবাহিনী, ইমিগ্রেশন সদস্য, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার ২৬৪ জন সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদেরকে নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৯ দেশ মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বেসামরিক জনগণের ওপর অব্যাহত সহিংসতা ও সেনাবাহিনীর দমননীতির প্রতি তীব্র নিন্দাও জানানো হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত বিবৃতিতে দেশটির বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা বন্ধ করতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা বেসামরিক মানুষের ওপর চলমান সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাই। বিশেষ করে তাদের ওপর সামরিক বাহিনীর এলোপাথাড়ি বিমান হামলার নিন্দা জানাই।’ খবর ভয়েস অব আমেরিকা’র।
ইকুয়েডর, ফ্রান্স, জাপান, মাল্টা, দক্ষিণ কোরিয়া, স্লোভেনিয়া, সুইজারল্যান্ড, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এ বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বিশেষভাবে রাখাইন রাজ্যের অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সে অঞ্চলে অবিলম্বে মানবিক সাহায্য পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়।
মিয়ানমারে নির্যাতনের জেরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছে। বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের ফেরার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উদ্বাস্তু এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গারা যাতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, সম্মানের সাথে ফিরতে পারে, তার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার ওপর আমরা বিশেষ জোর দিচ্ছি।’
তিন বছর আগে দেশটির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও গণতন্ত্রকামীদের সাথে সরকারের সংঘাত চলে আসছে। বর্তমানে চলমান সংঘাতে দেশটিতে ২৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং এক কোটি আশি লাখ মানুষের মানবিক সাহায্য প্রয়োজন।

















