ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে সই করতে পাকিস্তান যেতে পারেন ট্রাম্প

fec-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তা স্বাক্ষরের জন্য তিনি পাকিস্তানে যেতে পারেন।

নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। লাস ভেগাস সফরে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টারে ওঠার আগে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’

চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পাকিস্তানে যেতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যেতে পারি, হ্যাঁ। যদি ইসলামাবাদে চুক্তি স্বাক্ষর হয়, তাহলে আমি যেতে পারি।’

ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তান একটি “চমৎকার দেশ” এবং দেশটির সামরিক নেতৃত্ব আলোচনাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, খুব শিগগিরই—সম্ভবত দুই দিনের মধ্যেই—ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি। প্রায় ২১ ঘণ্টার ওই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।

যদিও এখনও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি, তবুও পারমাণবিক কর্মসূচি ও একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি নিজেই এই চুক্তি সম্পন্ন করতে আগ্রহী এবং এটিকে “ইতিহাসের অন্যতম সেরা চুক্তি” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি সম্ভাব্য চুক্তির কৃতিত্ব নিজের নামে নিতে চান। একই সঙ্গে, এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেশটির মর্যাদা বাড়িয়েছে।

২০২৫ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। প্রথম দফা অনুষ্ঠিত হয় মাস্কাটে, এরপর রোম ও জেনেভাতে বৈঠক হয়। ইসলামাবাদের এই পর্বটি ১৯৭৯ সালের পর দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত, তবে যুক্তরাষ্ট্র চায় কঠোর ও যাচাইযোগ্য সীমা নির্ধারণ করতে, যাতে অস্ত্রায়নের ঝুঁকি এড়ানো যায়।

এদিকে, আল জাজিরা ১৬ এপ্রিল জানিয়েছে, পাকিস্তান এই আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির আশাবাদী এবং নতুন সংলাপের জন্য সক্রিয়ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পও জানিয়েছেন, প্রথম দফার পর ইরান চুক্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করে যোগাযোগ করেছে।

জিও নিউজসহ আঞ্চলিক গণমাধ্যম এবং স্থানীয় বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রমাণ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

সিএনএন, ফক্স নিউজ এবং দ্য হিলের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের মন্তব্যগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করেছে।

উৎসঃ দ্য টাইমস অফ ইসলামাবাদ

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইরান, ডোনাল্ড ট্রাম্প, পাকিস্তান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন