কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে তিন চক্রের ফাঁদ!

fec-image

একটু বিনোদনের জন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। তারা মনের মতো ঘুরে বেড়ায়। সমুদ্র স্নানে মেতে ওঠে। সাগর কিনারে রাতের শোভা উপভোগ করে অনেকে। সৈকত সংলগ্ন আবাসিক হোটেলে থাকে অনেক পর্যটক। প্রশাসনিক নিরাপত্তায় নির্বিঘ্নে সময় কাটায় সমুদ্র নগরে।

কিন্তু পর্যটকদের টার্গেট করে বসে থাকে পতিতা, হিজড়া ও ছিনতাইকারীরা। বখাটে শ্রেণির তরুণ-তরুণীদের অন্তত দশটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। সৈকতের মূল পয়েন্টগুলোতে ফাঁদ পেতে বসে থাকে তিন চক্রের সদস্যরা।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যমতে, একদল নারী সমুদ্র সৈকতে ঘুরে বেড়ায়। মনে হবে পর্যটক। কিন্তু না। তারা সবাই ভাসমান পতিতা। অভিনব স্টাইলে শিকার ধরে। সন্দেহভাজন পুরুষকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় নির্জন স্থানে। সেখানে আগেভাগে উৎপেতে, ছদ্মবেশে থাকে পেশাদার ছিনতাইকারী। টার্গেটকৃত ব্যক্তির সবকিছু ছিনিয়ে নেয় তিন চক্রের সদস্যরা।

পতিতা ও ছিনতাকারী সিন্ডিকেটটি বেশ কিছুদিন ধরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সঙ্গে রয়েছে হিজড়াও। তাদের শিকার ধরা চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
কৌশলী এই ‘অপরাধীচক্র’ শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশও তাদের ধরতে পারে না সহজে। যে কারণে সুযোগ বুঝে পর্যটকদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয় তারা।

এছাড়া সন্ধ্যা নামলে হোটেল মোটেল জোনের কয়টি সড়কে বসে পতিতার হাট। খদ্দেরের বিচরণ চোখে পড়ার মতো। চিহ্নিত কয়েকটি আবাসিক হোটেল ও কটেজে দেহ ব্যবসা চলছে। দেহ ব্যবসার জন্য মজুত রাখা হয় রোহিঙ্গা রমণীদের।

টুরিস্ট পুলিশের নিয়মিত টহল, মোবাইল কোর্ট, প্রশাসনিক কঠোর নিরাপত্তার মাঝেও এমন কিছু অপরাধের কারণে বদনাম হচ্ছে কক্সবাজারের।
তবে স্থানীয়রা বলছে, একটি সুবিধাবাদী শ্রেণির কারণে অপরাধীচক্র বেপরোয়া। পতিতাদের নিরাপদ স্থান কিছু কটেজ ও আবাসিক হোটেল। সেখানে যাতায়াত রয়েছে নামিদামি ব্যক্তিদেরও। রঙ্গলীলার সাথে জুয়া খেলায় মেতে ওঠে তারা। পতিতাদের আস্তানার সঙ্গে জড়িত হোটেল কর্মচারি ও মালিকপক্ষ। ইতোমধ্যে এমন অপরাধীদের আটকও করেছে পুলিশ।

সাগর পাড়ের ব্যবসায়ীরা বলছে, সন্ধ্যার পর থেকে একটা গ্রুপের অবাধ বিচরণ বেড়ে যায়। কিছু টোকাই আছে, যারা শহরের মোড়ে মোড়ে ঝামেলা করে। পর্যটকদের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে বেড়ায়। সুযোগ বুঝে স্বর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। টোকাই, ছিনতাইকারীদের পরিচালনা করে এমন একটি সিন্ডিকেট রয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, ছিনতাই, পতিতাবৃত্তিসহ সব ধরণের অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর। কারা এসব অপরাধে জড়িত এবং নেপথ্যে কারা রয়েছে, তাদের গোয়েন্দা তথ্য নিচ্ছি। সবাইকে খুব সহসা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

তিনি বলেন, সমুদ্র সৈকতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। অপরাধী ধরছি। কিছু আবাসিক হোটেল নজরদারিতে রয়েছে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে নাম ঠিকানাসহ সঠিক তথ্য জেনে ব্যবস্থা নিচ্ছি। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, তিন চক্র, ফাঁদ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 4 =

আরও পড়ুন