কারামুক্তি পেয়েই বাংলাদেশে ঢুকেছে তিন রোহিঙ্গা

fec-image

মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে নতুন করে কোনও রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা পালন হচ্ছে না। নাফ নদী অতিক্রম করে আবারও তিন রোহিঙ্গা এসেছে। তারা উঠেছে দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। মানবিকতার দোহাই দিয়ে এবারও তাদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। গত এক সপ্তাহে আসা এই তিন রোহিঙ্গা মিয়ানমারের কারাগারে বন্দি ছিল। দেশটির জান্তা সরকার গত এক সপ্তাহে এই তিন রোহিঙ্গার দুজনকে সাধারণ ক্ষমায় এবং একজনের সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ায় মুক্তি দেয়। আর কারাগার থেকে বের হয়েই নিজ দেশে না থেকে এরা অবৈধভাবে নাফ নদী অতিক্রম করে ছুটে এসেছে বাংলাদেশে। এপিবিএনসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলো এ ঘটনা অবগত।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এপিবিএন-১৬ এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। নতুন-পুরাতন মিলে বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফেরপাহাড়ি এলাকায় শরণার্থী শিবিরগুলোতে ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করছে। মানবিক কারণে তাদের শেখ হাসিনা সরকার স্থান দিলেও গত তিন বছরের বেশি সময়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি। নানা অজুহাতে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে টালবাহানা করছে। আর এর সুযোগে রোহিঙ্গারা এখনও বাংলাদেশে আসছেই। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও সীমান্তে সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

এদিকে, সরকার শরণার্থীদের চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার। তারই সূত্র ধরেই ইতোমধ্যে চার দফায় ভাসানচরে প্রায় ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এপিবিএন পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সেনা প্রধানের বিশেষ ক্ষমায় ২৪ ফেব্রুয়ারি টেকনাফের আলীখালী ২৫ নম্বর ক্যাম্পের ইসলামের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪০) ও টেকনাফের জাদিমুরা ২৭ নম্বর ক্যাম্পের মো. ইদ্রিসের ছেলে আব্দুর রশিদ (৩০) ছাড়া পায়। পরের দিন তারা নাফনদী পেরিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অনুপ্রবেশ করে কক্সবাজারের টেকনাফের এ দুটি ক্যাম্পে তাদের পরিবারের কাছে চলে এসেছে। এর আগে ২০১৯ সালে মিয়ানমারের নদী সীমানায় মাছ ধরতে গেলে সে দেশের সীমান্ত রক্ষীদের হাতে ধরা পড়েছিল এই দুই রোহিঙ্গা। সেসময় তাদের ৪ বছরের সাজা হয়েছিল। একইভাবে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে কারামুক্তি পেয়ে টেকনাফের আলীখালী ক্যাম্পে অবৈধভাবে আসেন ফজল আহম্মেদের ছেলে জাফর আলম (৩৫)। এই রোহিঙ্গাও ২০১৯ সালে ৮ জানুয়ারি মিয়ানমার সীমানায় নদীতে মাছ শিকারে গিয়ে নিজেদের দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে আটক হয়েছিলেন।

এ বিষয়ে টেকনাফ জাদিমুরা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের নেতা আবুল কালাম জানান, ‘মিয়ানমারের কারাগারে জেল খেটে এক রোহিঙ্গা তার শিবিরে ফিরে এসেছে। সে টেকনাফের উনচিপ্রাংয়ের লম্বাবিল এলাকা দিয়ে এক দালালের মাধ্যমে এপারে পৌঁছেন বলে জানিয়েছে। মিয়ানমারের আকিয়াবে ছয় বছর জেল খাটা শেষে সে এখানে তার পরিবারের কাছে এসেছে। তবে সে জেলে গেছে ২০১৭ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের আগে। কিন্তু, এরপর যেহেতু নিপীড়নের কারণে তার পরিবারের কেউ দেশে নাই, তাই সে নিজেও আর সেখানে একা থাকতে পারেনি। তাই সেও জেল খাটা শেষে তার পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে।’

এপিবিএন-১৬ এর অধিনায়ক এসপি মো. তারিকুল ইসলাম জানান, ‘সম্প্রতি মিয়ানমারে কারামুক্তি পাওয়া তিন রোহিঙ্গা টেকনাফে শিবিরে পৌঁছেছে। তারা সীমান্ত দিয়ে নাফনদী পেরিয়ে শিবিরে পৌঁছায়। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’

স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যদি ভিন্ন কোনও দেশে কারও পরিবার বা স্বজনরা থাকে তাহলে কি কোনও নিয়ম-কানুন না মেনে কেউ শুধুমাত্র মানবিকতার অজুহাতে সেই দেশে চলে যেতে পারে? তা যদি যাওয়া না যায় তাহলে রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রেও এমন মানবিকতা দেখানো এখন বন্ধ করতে হবে। মানবিকতার নামে ভিন্ন দেশের মানুষ উখিয়া-টেকনাফে বোঝাই করা এই এলাকার মানুষ আর মেনে নেবে না।

এদিকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমান্ত পরিদর্শন করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম। তার পরিদর্শনের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেছিলেন, ‘বিজিবি অবৈধভাবে কাউকে সীমান্ত অতিক্রম করতে দেবে না, ঢুকতেও দেবে না। আমরা মিয়ানমার সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’

সূত্র: banglatribune.com

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven + eighteen =

আরও পড়ুন