কিউকাপিউ গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প ত্বরান্বিত করতে একমত চীন ও মিয়ানমার জান্তা


মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন কৌশলগত ‘কিউকাপিউ গভীর সমুদ্র বন্দর’ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে চীন এবং মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার।
গত ১৭ জুন জান্তা নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের চীন সফর শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এর আওতাভুক্ত ‘চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর’ (সিএমইসি) এর মূল প্রকল্পগুলো বিশেষ করে কিউকাপিউ গভীর সমুদ্র বন্দর এবং মুসে-মান্দালয় রেলওয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে উভয় দেশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
রাখাইন রাজ্যের কিউকাপিউ টাউনশিপের মাদায় ও কাদাইচি দ্বীপে নির্মিতব্য এই বন্দরের প্রথম ধাপের জন্য প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিআইটিসি কনসোর্টিয়াম এই প্রকল্পে ৭০ শতাংশ এবং মিয়ানমার ৩০ শতাংশ মালিকানায় রয়েছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে ১,০০০ ফুটের বেশি দীর্ঘ বিশ্বের আধুনিক কার্গো জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার সরাসরি এই বন্দরে নোঙর করতে পারবে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে চীন-মিয়ানমার তেল ও গ্যাস পাইপলাইনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশ দুটি একমত হয়েছে। এছাড়া, জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই বিদ্যুৎ গ্রিড সংযোগের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহজতর করার লক্ষ্যে চীনা মুদ্রা ইউয়ান এবং মিয়ানমারের কিয়াটের মধ্যে সরাসরি লেনদেন ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছেছে উভয় পক্ষ।
চীন ও জান্তা সরকারের এই উচ্চাভিলাষী ঘোষণার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে মাঠ পর্যায়ে। বর্তমানে কিউকাপিউ টাউনশিপজুড়ে জান্তা বাহিনী এবং আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। প্রকল্পের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়নের এই নতুন ঘোষণা ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উৎস: বার্মা নিউজ অনলাইন ( ১৯ জুন ২০২৬ )
















