কুতুবদিয়ায় পতিত লবণের মাঠে ধান চাষ

fec-image

কুতুবদিয়ায় লবণের পতিত মাঠে চাষ হচ্ছে ধান। কৃষি অধিদপ্তরের প্রচেষ্টায় লবণ সহিষ্ণু বীজ উৎপাদন করে তা উপকূলীয় এলাকায় সরবরাহ করার মাধ্যমে চাষিদের মাঝে ধান উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ছে।

গত এক দশক ধরে উপজেলায় বিশেষ করে উত্তর ধুরুং, দক্ষিণধুরুং , কৈয়ারবিল ,লেমশীখালী , আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নে সাগরের লবণাক্ত
পানি ঢুকে ধানচাষ কমে যায়। এমনকি প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের অন্তত ১০০ হেক্টর জমিতে লবণ চাষও বন্ধ ছিল কয়েক বছর। এটির প্রয়োজনীয়তা আর চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে কৃষি অধিদপ্তর ব্রি-৬৭, ব্রি-৪৭, বিনা-১৯ প্রভৃতি লবণ সহিষ্ণু ধানবীজ উদ্ভাবন করেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি আউশ মৌসুমে লবণ চাষের পর পতিত জমিতে লবণ সহিষ্ণু ধানের চাষ করা শুরু করেছেন চাষিরা। কয়েকটি ইউনিয়নে লবণের জমিতে ধানের চাষ হচ্ছে অন্তত ২০০ হেক্টর । অথচ গত বছরও ছিল মাত্র ৪০ হেক্টর জমি। ভাল ফলন আর উৎসাহি চাষিরা ঝুঁকছে নতুন উদ্ভাবিত ধান চাষে। এমনিতেই লবণ উৎপাদনের জন্য নেয়া জমিগুলো জুন-নভেম্বর মাস পর্যন্ত পড়ে থাকে। এসময়টা কাজে লাগিয়ে ধান চাষ করছেন চাষিরা।

উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের চাষি ছৈয়দ নুর জানান, গত কয়েক বছর ধরে লবণ, ধানচাষ করার সুযোগ পাইনি বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা থাকায়। এবার বাঁধ মেরামত হওয়ায় লবণাক্ত মাঠে ব্রি-৪৭ চাষ করছি। বৃষ্টির দেখা নেই। আশা নিয়ে চাষ করেছি। অনেক জমিতে চারা মরে যাচ্ছে সেচের অভাবে। এ ছাড়া জমিতে লবণাক্ততা নিচে নামার জন্য ইউরিয়া, এমওপি প্রভৃতি সার প্রয়োজন হয়। ১৬ টাকা কেজির ইউরিয়ার সার সরকারি দর এখন ২২ টাকা কেজি। খুচরা দোকানে কিনতে গেলে ২৪ টাকাই গুনতে হয়। ফলে ধান চাষে অনেক খরচ বেশি পড়ে যাবে ।

উপজেলা উদ্বিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. নাজেম উদ্দিন বলেন, ‌‌‌‘দ্বীপের চাষিরা এখন লবণ মাঠে পতিত সময়ে লবণ সহিষ্ণু নতুন উদ্ভাবিত ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় লবণ উৎপাদনের জমিতে ২০০ হেক্টর ধান চাষ হচ্ছে। আশা করি চাষিরা ভাল ফলনও পাবে। এ ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ নিয়মিত চাষিদের পরামর্শ ও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six − 2 =

আরও পড়ুন