কুতুবদিয়া জুড়ে চাকরির ফাঁদ প্রতারক চক্রের

fec-image

কুতুবদিয়া দ্বীপ জুড়ে চাকরি ফাঁদে ফেলে একটি প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। মোবাইলে পরিচিত সরকারি চাকরিজীবীর নাম ভাঙ্গিয়ে বিকাশের মাধ্যমে নিচ্ছে টাকা। সোনার হরিণ চাকরির লোভে শিক্ষিত যুবকেরা প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দিতে বাধ্য হচ্ছে। টাকা খুঁইয়ে অগোচরেই ঠকছে
মানুষ। নেই কোন প্রতিকার।

দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়েনের পূর্ব আলী ফকির ডেইল গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা শাহেদুল আলম জানান, গত সপ্তাহে তার নাম বলে অপরিচিত মোবাইল ০১৮৭০৬৪৫১৪৭, ০১৬২৪৯৮৫১৭৮, ০১৬১০৯৬৮৬০১ থেকে স্থানীয় বেশ কয়েকজন যুবক দ্বীপাঞ্চল কোটায় লোক দিতে বলে প্রতারক চক্র।

যুবকরা ওইসব নাম্বারে যোগাযোগ করে অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন ও বসকে খুশি করার টাকা দাবী মেটাতে
চাকরি প্রার্থী যুবকেরা সাধ্যমত অর্থ প্রতারক চক্রের বিকাশ নাম্বার ০১৭৫৪৫২৯৬০৫, ০১৮৬০২৫৯৯৯২, ০১৬২৪৯৮৫১৭৮  গুলোতে তারা অন্তত ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে মোবাইল বন্ধ করে রাখে।

বিষয়টি সন্দেহ হলে প্রতারিত যুবকেরা তার পারিবারের সদস্যদের জানালে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তাকে প্রতারক চক্রটি ব্যবহার করায় তিনি কুতুবদিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী না নেয়ায় গত ২৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বায়েজিদ থানায় ডায়েরীটি করান।

একই ভাবে লেমশীখালীর আব্দুল মান্নান নামের এক সেনা সদস্যের নাম বলে মোবাইলের মাধ্যমে একই এলাকার নুর আলম সওদাগরের পুত্র খোরশেদ আলমকে সেনাবাহিনীর চাকরি দেবার নাম করে বিকাশের মাধ্যমে ৩ দফায় ৩৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় বলে প্রতারিত যুবকের চাচা সাবেক ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ জানান।

ধুরুং বাজারে বিসমিল্লাহ হোটেল মালিক মানিক সওদাগর বলেন, কয়েক মাস আগে দক্ষিণ ধুরুং ইউপি‘র সাবেক চেয়ারম্যানের নাম করে আনসেভ একটা মোবাইলে ১০ হাজার টাকা বিকাশে ধার নেয় । পরে টাকার বিষয়টি উক্ত চেয়াম্যানকে জানালে তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেননা বলে জানান। তবে উক্ত প্রতারককে পরে সন্দেহজনক সনাক্ত করতে পারলেও প্রতারকের নাম প্রকাশ করতে চাননা তিনি।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ওমর হায়দার বলেন, এধরণের প্রতারণার শিকার হচ্ছে কেউ কেউ। তবে অধিকাংশই দূরবর্তী বিভিন্ন জেলার মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করছে। অনেকেই না বুঝে বোকার মত মিথ্যা প্রলোভনে সরকারি চাকরির নামে টাকা দিচ্ছে । অনেক সময় টাকা কম হলে বিষয়গুলো চেপে যান বা অভিযোগ করতে অনিহা দেখান। বিশেষ করে সেনাবাহিনীতে চাকরির বেলায় কোন ঘুষ
বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 14 =

আরও পড়ুন