খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান

fec-image
দুর্গম পাহাড় পেরিয়ে যখন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যায় মানুষের দোরগোড়ায়, তখন তা কেবল একটি চিকিৎসা ক্যাম্প নয়,মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। সেই মানবিক দায়বদ্ধতার অনন্য নজির স্থাপন করেছে খাগড়াছড়ির জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান হোটেল গাইরিং-এর সহযোগিতায় ইন্টারনাল মেডিসিন ও ক্লিনিক্যাল কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মহসিন জিল্লুর করিম। তাদের উদ্যোগে জেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় দুই শতাধিক অসহায়, দরিদ্র ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষ পেয়েছেন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং স্বাস্থ্য পরামর্শ।
“একটি হাসি ও সঠিক চিকিৎসা, দুটোই জীবন বাঁচাতে পারে”এই মানবিক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রবিবার (১৪ জুন) খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত নির্মল চন্দ্র কার্বারীপাড়া এলাকায় দিনব্যাপী এ বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সকাল থেকেই নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণদের দীর্ঘ উপস্থিতিতে পুরো এলাকা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সরাসরি সেবা পাওয়ার সুযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও স্বস্তি। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত অনেকেই এদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণ করেন। চিকিৎসাসেবা প্রদানকালে প্রফেসর ডা. মহসিন জিল্লুর করিম রোগীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য এমন উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মানবকল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন রত্নগর্ভা সন্তান আদিনা রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও হোটেল গাইরিং-এর স্বত্বাধিকারী এস. অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা, জামাল হোসেন, ডা. অর্পণ ত্রিপুরা, অতসী, সোহাগ ত্রিপুরাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবকরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি তাদের জন্য এক বিরল সুযোগ। তারা মনে করেন, এমন মানবিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
মানবসেবা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠা এই আয়োজন
আবারও প্রমাণ করেছে,মানুষ মানুষের জন্য। একটি আন্তরিক উদ্যোগ, একটি সহানুভূতির হাসি এবং সময়োপযোগী চিকিৎসাসেবা বদলে দিতে পারে অসংখ্য মানুষের জীবন, জাগিয়ে তুলতে পারে নতুন আশার আলো।
Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি, চিকিৎসা সেবা, পাহাড়ি জনপদ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন