খাগড়াছড়িতে নতুন ২০ জনসহ ৪১৬ জন করোনা আক্রান্ত

fec-image

খাগড়াছড়িতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে সাথে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। খাগড়াছড়ি ও রামগড় পৌরসভা এবং মানিকছড়ি উপজেলাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করার এক মাস পরও তা কার্যকর হয়নি। ফলে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। কিন্ত এ নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই খাগড়াছড়ি স্বাস্থ্য বিভাগে কিংবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। তারা যেন কোন অদৃশ্য শক্তির বেড়া জালে আটকা। সাধারণ মানুষের উদ্বেগ-উৎকন্ঠার কোন মূল্য নেই তাদের কাছে।

এ দিকে(১৭ জুন) গত ২৪ ঘন্টায় আরও ২০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪১৬ জনে। তবে এর মধ্যে ২৩০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন বেশ কয়েক জন। যাদের নমুনা রিপোর্ট দুই থেকে তিন সপ্তাহের পরও আসেনি।

খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ডাক্তার নুপুর কান্তি দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ পর্যন্ত ২৭শ ৩৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট এসেছে ২৬শ ৯৪ জনের। তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগই পুলিশ ও ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মী।

এদিকে গত ১৬ জুন করোনা সংক্রমণ হারের বিবেচনায় ইতিমধ্যে খাগড়াছড়ি ও রামগড় পৌরসভা এবং মানিকছড়ি উপজেলাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়াও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভাকে ইউলো জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এক মাস পার হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত সে রেড জোনের কার্যকারিতা বাস্তবায়ন না হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। খাগড়াছড়ি আরও একটি উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে দেরীতে করোনার নমুনার ফলাফল আসা। প্রতিটি নমুনার ফলাফল আসতে সপ্তাহ পার হয়ে যাচ্ছে।

খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. নুপুর কান্তি দাশ জানান (১৬ জুন)খুব শীঘ্রই জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটি এ বিষয়ে সিন্ধান্ত নেবে। জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন পেলে জেলা কমিটি তা বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু সিভিল সার্জনের এমন বক্তব্য এক মাসেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকে এমন ঘটনাকে সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, খাগড়াছড়িতে প্রথম কারোনাভাইরাস পজেটিভ শনাক্ত হয় ২৯ এপ্রিল। প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন, নারায়নগঞ্জ আদমজি (ইপজিডে) কর্মরত শ্রমিক এরশাদ চাকমা। তার বাড়ি জেলার দীঘিনালার কামুক্কাছড়া গ্রামে।

গত ৩১ মে পর্যন্ত খাগড়াছড়িতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩০ জন। জুন মাসে (২৪ জুন) তা দাঁড়িয়েছে একশ ৭১ জনে। তার মধ্যে পুলিশ সদস্য ৭০ জন ও ডাক্তার ও নার্সসহ স্বাস্থ্য কর্মী ১৬ জন। কিন্তু বর্তমানে নাজুক পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে। বাড়ছে ক্রমেই করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। অথচ নির্বিকার খাগড়াছড়ি জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটি। ফলে জনমনে নানা প্রশ্ন ক্রমেই দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আক্রান্ত, করোনা, খাগড়াছড়িতে
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − four =

আরও পড়ুন