গণধর্ষণের দুই বছর পর কুকি নারীর মৃত্যু


ভারতের মণিপুরে ২০২৩ সালের জাতিগত সহিংসতার শুরুর দিকে গণধর্ষণের শিকার হওয়া এক কুকি নারী দীর্ঘ দুই বছর মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা ভোগের পর সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশটির কুকি জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠন ন্যায়বিচারের জোরালো দাবি জানিয়েছে এবং একই সঙ্গে কুকিদের জন্য পৃথক প্রশাসন গঠনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সংগঠনগুলোর দাবি, ২০২৩ সালের মে মাসে ইম্ফল থেকে ওই নারীকে অপহরণ করে গণধর্ষণ করা হয়। যদিও তিনি অপহরণকারীদের কবল থেকে পালাতে সক্ষম হন, তবে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মানসিক আঘাত থেকে আর কখনো পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি। অবশেষে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা ঐ নারী চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি গুয়াহাটিতে তার মৃত্যু হয়।
চুরাচাঁদপুর ও দিল্লিভিত্তিক কুকি সংগঠনগুলোর মতে, এই মৃত্যু সরাসরি ২০২৩ সালের সহিংসতার ফল এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। তারা অভিযোগ করেছে, অপরাধের গুরুত্ব ও নাগরিক সমাজের বারবার দাবির পরও এখন পর্যন্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এক বিবৃতিতে দেশটির ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির নেতা ফোরাম (ITLF) জানায়,কুকি-জো জনগোষ্ঠীকে যেভাবে পরিকল্পিতভাবে নির্মম সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তার আরেকটি বেদনাদায়ক প্রমাণ এই মৃত্যু।
সংগঠনটি আরও বলে, কুকি-জো জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্য পৃথক প্রশাসন ছাড়া আর কোনো বাস্তব বিকল্প নেই। নিহত নারীর স্মরণে শনিবার সন্ধ্যায় চুরাচাঁদপুরে একটি মোমবাতি মিছিলেরও আয়োজন করা হয়।
এদিকে দিল্লি ও এনসিআর-এর কুকি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (KSO) এক বিবৃতিতে জানায়,আমরা স্পষ্টভাবে দাবি করছি, তার মৃত্যুকে ২০২৩ সালে তার ওপর সংঘটিত সহিংসতার প্রত্যক্ষ পরিণতি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। এর ব্যতিক্রম ন্যায়বিচার অস্বীকারের শামিল হবে।”
সংগঠনটি কেন্দ্র সরকারের প্রতি কুকি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির জন্য পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত করার আহ্বান জানিয়েছে, যা তারা “অপরিহার্য ও অনিবার্য” বলে উল্লেখ করেছে।
ভারতের কুকি উপজাতির একটি নারী সংগঠন জানিয়েছে, নিহত নারী কেবল অবিচারের শিকার হিসেবেই নয়, বরং অকল্পনীয় বর্বরতার মুখেও তার সাহস ও স্থিতিস্থাপকতার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। দিল্লি ও এনসিআরের কুকি-জো মহিলা ফোরাম জানায়,প্রায় দুই বছর ধরে তিনি এমন যন্ত্রণা বয়ে বেড়িয়েছেন, যা কোনো মানুষের সহ্য করা উচিত নয়।
সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে এন ই (১৯ জানুয়ারি ২০২৬)

















