চকরিয়া-পেকুয়ায় ইউপি নির্বাচনে জামানত হারাল নৌকা প্রতীকের ২ চেয়ারম্যান প্রার্থী

fec-image

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ও পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

নৌকার টিকেটে জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের জন্নাতুল বকেয়া রেখা ও পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের নাজেম উদ্দিন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, তৃতীয় ধাপে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ১০টি এবং পেকুয়া উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এসএম শাহাদাত হোসেন বলেন, তৃতীয় ধাপে ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৫টির বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ব্যালেট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে।

বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী, ৩টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবং অন্য ৬টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত) বিজয়ী হয়েছেন।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, কৈয়ারবিল ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৪২ জন। নির্বাচনে ভোট আদায় হয়েছে ১০ হাজার ২৯০ টি। এতে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৯ হাজার ৯৯৮টি। বাতিল হয়েছে ২৯২ ভোট। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯ জন প্রার্থী অংশ গ্রহণ করেন।

বৈধ ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জন্নাতুল বকেয়া রেখা পেয়েছেন ৯৯ ভোট, আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহমান আবেদ পেয়েছেন ২৫ ভোট, মোটর সাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ১১ ভোট, অটোরিকশা প্রতীকের মুহম্মদ নিশান উদ্দিন পেয়েছেন ৮৯ ভোট, রজনীগন্ধা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনিচ উর রহমান জুয়েল পেয়েছেন ৫ ভোট, টেলিফোন প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জকরিয়া পেয়েছেন ১ হাজার ২৭ ভোট, টেবিল ফ্যান প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ পেয়েছেন ১ হাজার ৬৭২ ভোট, চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজালুর রহমান চৌধুরী পেয়েছেন ৩ হাজার ৩১৩ ভোট এবং ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৫৭ ভোট।
এদের মধ্যে মোহাম্মদ জকরিয়া, মামুনুর রশীদ, আফজালুর রহমান ও ইকবাল হোসেন ছাড়া বাকি ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম।

এদিকে মগনামা ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৪ হাজার ৪৬৮ জন। নির্বাচনে ভোট আদায় হয়েছে ১১ হাজার ১৯৪ ভোট। এতে বৈধ ভোটের সংখ্যা ১১ হাজার ৪৫ ভোট। বাতিল ভোটের সংখ্যা ১৪৯টি। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১২ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন।

বৈধ ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাজেম উদ্দিন পেয়েছেন ১৪৫ ভোট, চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম তৌহিদুল ইসলাম নূরী পেয়েছেন ৩১ ভোট, টেবিল ফ্যান প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ৩৪ ভোট, ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোজাম্মেল হোছাইন পেয়েছেন ৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মদ ইউছুপ পেয়েছেন ৩৯ ভোট, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. আলমগীর পেয়েছেন ৪৬ ভোট, অটোরিক্সা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুল আমিন পেয়েছেন ৩১৩ ভোট, আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াজুল করিম পেয়েছেন ১৫ ভোট, রজনীগন্ধা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদুল মোস্তফা পেয়েছেন ২০ ভোট, টেলিফোন প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহেদুল মোস্তফা পেয়েছেন ৩০ ভোট, মোটর সাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরাফত উল­াহ ওয়াসিম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৪৫ ভোট এবং ঢোল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইউনুস চৌধুরী পেয়েছেন ৫ হাজার ২৭০ ভোট।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও মগনামা ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, মগনামা ইউপিতে বিজয়ী ও প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীসহ অন্য সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 + 6 =

আরও পড়ুন