চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু


চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। বন্দর ভবনের ৪ নম্বর গেটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সময় বন্দরের ভেতরে যানবাহন চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে এই কর্মসূচির ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
ধর্মঘটের কারনে, জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন ও বহির্নোঙর এলাকায় পণ্য ওঠানামা ও পরিচালনার সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রায় ২০০ জন সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিলেও আন্দোলনকারীরা ওই বৈঠকে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচির ঘোষণা দেন সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। সেখানে এনসিটি ইজারা পরিকল্পনা বাতিলের পাশাপাশি বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক নেতাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ ও হয়রানি করা হচ্ছে। এ কারণে কর্মসূচি আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তাঁরা আরও জানান, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ধাপে ধাপে কর্মবিরতি পালন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার আশ্বাসে সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিত রাখা হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে নামতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
এদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর বিভাগের উপকমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম জানান, বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় এই কর্মবিরতির প্রভাব বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

















