টেকনাফে সাগরের আগ্রাসনে শাহপরীর দ্বীপ, বিলীন হচ্ছে ঝাউবাগান কমছে পর্যটন

fec-image

দেশের দক্ষিণের শেষ ভূখণ্ড কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদী ও সাগরের মোহনায় অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণ ঘোলারচর এলাকার ঝাউবাগান এখন অস্তিত্ব সংকটে। বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের ধারাবাহিক তোড়ে প্রতিদিন উপড়ে যাচ্ছে শত শত ঝাউগাছ। দ্রুত টেকসই বাঁধ বা জিওব্যাগ দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমের আগেই এই নয়নকাড়া এলাকাটি সাগরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে ঝাউগাছ উপড়ে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো।

স্থানীয়দের মতে, দক্ষিণ ঘোলারচরের ঝাউবাগানটি কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঝড় থেকে দ্বীপকে রক্ষা করার প্রাকৃতিক দেয়াল হিসেবে কাজ করে।
শাহপরীর দ্বীপের স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী জানান, “ইতিমধ্যে সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে শত শত ঝাউগাছ শিকড়সহ উপড়ে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ বা বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙন রোধ করা না গেলে পুরো বাগানটি সাগরে বিলীন হয়ে যাবে। সরকারি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।”

সাম্প্রতিক সময়ে শাহপরীর দ্বীপের এই স্থানটি পর্যটকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক সংলগ্ন দৃষ্টিনন্দন সড়ক দিয়ে সাগর দেখতে দেখতে শাহপরীর দ্বীপে আসার পথটি ভ্রমণপিপাসুদের মুগ্ধ করে। পথে লবণ চাষের বিস্তৃত মাঠ এবং নাফ নদীর মোহনায় দাঁড়িয়ে মিয়ানমার সীমান্ত দেখার সুযোগ পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে। বিশেষ করে দ্বীপের শেষ প্রান্তের এই ঝাউবাগানটি পর্যটকদের মূল বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শাহপরীর দ্বীপের এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলে ভবিষ্যতে এখানে পর্যটক সমাগম আরও বাড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে পর্যটকরা বিমুখ হতে পারেন। আসন্ন বর্ষার প্রবল ঢেউ শুরু হওয়ার আগেই যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জিওব্যাগ বা স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে, তবেই রক্ষা পাবে এই অনন্য ভূখণ্ড।

পরিবেশবাদী ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্বীপের দক্ষিণ অংশ রক্ষায় যেন এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন