তুমব্রু সীমান্ত পরিদর্শনে ডিসি-এসপি, মিয়ানমারের গোলাবর্ষণ অব্যাহত

fec-image

তুমরু ও বাইশফাঁড়ি সীমান্তে সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালেও থেমে থেমে গোলাবর্ষণ হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এসব গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। আবার বিকেল ৫টায় উপর্যপুরি মর্টারশেল নিক্ষেপ করে মিয়ানমারের তুমব্রু রাইট ক্যাম্প ও নারাচং ক্যাম্প থেকে। যাতে করে লোকজন আগের মতো আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। যার কথা স্বীকার করে তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম শাওন ও সাবেক আনসার সদস্য নূর হোহাম্মদ।

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার বাহিনীর মর্টারশেল নিক্ষেপ ও সীমান্তে যুদ্ধ বিমান থেকে গোলা নিক্ষেপের ভয়ে তটস্থ তুমব্রু পয়েন্টে বসবাসরত ৩’শ পরিবারকে নিরাপদে সরাতে চাচ্ছে সরকার। যাতে করে মিয়ানমারের ছোঁড়া হামলার ভয় থেকে নিষ্কৃতি পাবে সীমান্তের এসব অধিবাসী। আর সে লক্ষ্যে সোমবার দুপুরে (বেলা ১টায়) বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি ও বান্দরবান পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলামপিপিএমসহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় বসবাসরত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরে। এছাড়া অস্থায়ী ৪টি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন দলটি । যেগুলো আগামীতে আশ্রয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আর এ কেন্দ্র গুলো হলো তুমব্রু ভাজাবুনিয়া, বাইশপারি ও গর্জনবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এর আগে প্রতিনিধি দলটি বেলা ১১টায় ঘুমধুম পৌঁছে পার্শ্ববর্তী কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে যান। সেখানে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সরানো সাড়ে ৪শত পরীক্ষার্থীর খোঁজখবর নেন তারা । পরে তুমব্রু শূন্যরেখায় বসবাসরতদের অবস্থান দেখেন । আর তাদের নেতাদের সাথে কথা বলেন।

রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার দিল মোহাম্মদ ও মোহাম্মদ আরেফ আহমদ জেলা প্রশাসকসহ প্রতিনিধি দলকে বলেন, শূন্যরেখা থেকে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে দিতে ২০১৮ সালের ২ মার্চ তুমব্রু সীমান্তে সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছিল মিয়ানমার জান্তা ।

তখন প্রতিদিন গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যেত। মাইকিং করে শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বলা হতো। নইলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে হুমকি দিত তারা । সে সময় বিজিবির তৎপরতায় তখন সেনা সমাবেশ সরিয়ে নিলেও একাধিক চৌকি স্থাপন করে রোহিঙ্গাদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছিলো তখন। তারা আরো বলেন, তারই ধারারবাহিকতায় সর্বশেষ কৌশল হিসেবে তাদের ক্যাম্পে মর্টারশেল নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয় এক নিরীহ রোহিঙ্গা যুবককে । সে ঘটনায় আহত হয় আরো ৭ জন। যারা এখনও চিকিৎসা নিচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালে।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ পার্বত্যনিউজকে বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নাজুক হয় শুক্রবার রাত থেকে। সে দিন রোহিঙ্গা মো. ইকবাল উদ্দিন নিহত হয়েছিলো। তখন আহত হয়েছিল আরো কয়েকজন। আর সে দিন গভীর রাতে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পরদিন শনিবার থেকে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের সরানো হয় অন্যত্র। এদিন থেকে সবর্ত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে নাজুক পরিস্থিতিতে তুমব্রু থেকে বাইশফাঁড়ি পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পাড়ার ৩শ বাংলাদেশি পরিবারকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে ভাবতে শুরু করে সরকার। আর এ কারণে সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শনে আসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এদিকে তুমব্রু সীমান্তে পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক তিবরীজি সাংবাদিকদের বলেন, সীমান্তে গোলাগুলি ও নাজুক পরিস্থিতির কারণে এখানে বসবাসরত কিছু লোককে নিরাপদে নিতে চায় সরকার। যারা সীমান্তের অতি কাছে তাদেরকেই প্রথম দফায় অস্থায়ী ক্যাম্পে নেয়া হবে। পরিস্থিতি বুঝে ক্রমান্বয়ে অন্যদেরকেও আশ্রয়ে নেয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হবে। বিশেষ করে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ৯শত ৬৬ পরিবারের ৪ হাজার ৪শত ৪৩ রোহিঙ্গারকে নিরাপদে সরানোর সিদ্ধান্ত নেবেন তখন।

এ সময় তার সাথে আরো ছিলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা ফেরদৌস, বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্য ক্যনুয়ান চাক, থানার অফিসার ইনচার্জ টানটু সাহা ও ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজসহ ইউপি সদস্যরা।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, তুমব্রু থেকে তুয়াইঙ্গা ঝিরি হয়ে মনজয় পর্যন্ত ১২ গ্রামের ৫শত পরিবার ভয়ে কাতর। ৩শত পরিবার হলে বাদ পড়া আরো ২শত পরিবার
মিয়ানমার বাহিনীর গোলাগুলির ঝুঁকিতে থেকে যাবে। কেননা বাদ পড়া সেই ২শত পরিবারের বিপরীতে মিয়ানমার সীমান্তের শূন্যরেখা ও মিয়ানমারের বিভিন্ন অস্থায়ী ক্যাম্পে আরাকান আর্মির ১০ হাজার সদস্যের অবস্থান রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 5 =

আরও পড়ুন