“১৯৭৩ সালে আমি ছিলাম ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গড়াই নাচের শিল্পী হিসেবে রেসকোর্স ময়দানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীদের সাথে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু সেই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন। দেখেছিলাম উদার হৃদয় জাতির জনককে। প্রত্যেক শিল্পীকে তিনশত টাকা ও একটি করে কম্বল দিয়েছিলেন তিনি। ভালবাসতেন তিনি সবাইকে।”

তুমি চির অম্লান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

fec-image

তিনি অন্ধকারে জ্বালিয়েছেন আলোর মশাল। তিনি কে? স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই সবুজ বাংলাদেশে যাদুর কাঠির ছোঁয়ায় রাঙিয়ে দিয়েছেন জনসাধারণের হৃদয় আর দৃষ্টিতে একরাশ স্বপ্নের বারতা। এই সবুজ শ্যামল মাতৃভূমির এক অকুতোভয় সন্তান সেই রূপকথার রাজপুত্তুর শেখ মুজিবুর রহমান।

‘খোকা’ তার ছেলে বেলার নাম। খোকা নামটা মনে হলেই মনে হয় সবুজ গ্রামের প্রান্তর পাড়ি দিয়ে, তেপান্তরের মাঠে ঘোড়া হাঁকিয়ে ছুটে চলা এক দূরন্ত বালক। উপরে নীল আসমান। শুভ্র মেঘমালা শরতে ভেসে বেড়ায় বিক্ষিপ্ত হয়ে। কাশফুল দুলতে থাকে অবিরাম। গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল অপূর্ব সুন্দর। সামনে অবারিত সবুজ মাঠের দিগন্ত পেরিয়ে বয়ে যাচ্ছে তরতর করে রূপালী নদী। সেই ছোট্ট খোকা মা-বাবার অতি আদরের ধন। দুঃখী মানুষের জন্য যার চোখে জল ঝরে অবিরল। নিজে অভুক্ত থেকে খাবার তুলে দেন অন্যের মুখে।

পথে যেতে যেতে শিশির ভেজা ঘাস মাড়িয়ে থমকে দাঁড়ায় এক বালক। দেখতে পান, ঠক ঠক করে কাঁপতে থাকা এক শীতার্ত মানুষ। বুকের মাঝে বেদনার হিল্লোল ঢেউ ছড়ায়। পরম মমতায় নিজের চাদরটাও দিয়ে দিলেন। আহা, কী যে কষ্ট মানুষের। বন্ধুদের কারো হয়তো বই-খাতা নেই। বই খাতা দিয়ে সাহায্য করেন সেই ছেলেটি। এই ত্যাগের জন্য তাঁর মুখে ফুটে ওঠে এক চিলতে হাসি।

এত সুন্দর সংবেদনশীল মন যার, তিনি জাতির আশার প্রতীক। তাঁর জীবনও কুসুমাস্তীর্ণ নয়। পথে চলতে চলতে দেখেন চারপাশে বৈষম্য, অন্যায়-অত্যাচার। ফুঁসে ওঠেন কখনো কখনো, প্রতিবাদী হয়ে ওঠে কণ্ঠ। দেশ, মাটি আর মাকে ভালোবাসেন। ভালোবাসেন শোষিত, লাঞ্ছিত মানুষদের। তিনি আর কেউ নন, তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি জন্মগ্রহণ করেন গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। কে জানতো, একদিন এই খোকাই হয়ে উঠবেন অবিসংবাদিত একজন নেতা। ভবিষ্যতে তিনি হবেন বাঙালি জাতির আশার দীপাবলি। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান। মাতা সায়েরা খাতুন। মা-বাবার চোখের মনি, আদরের ধন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে তৃতীয়। হঠাৎ বেরিবেরি রোগ হওয়ায় তাঁর চোখের দৃষ্টি হয়ে ওঠে ক্ষীণ। মোটা কাঁচের চশমা উঠে চোখে।

১৯২৭ সালে গ্রামের ডিমাডাঙ্গা সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। তখন বয়স মাত্র সাত বছর। ১৯৩৭ সালে আবারও মিশনারী স্কুলে ভর্তি হন তিনি। ১৯৪২ সালে এই বিদ্যালয় থেকে এনট্রাস পাশ করেন। ১৯৪৪ সালে আইএ পাশসহ ১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাশ করে ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন শাখায় ভর্তি হন। ছাত্র জীবনেই তাঁর মধ্যে দেখা যায় নেতৃত্বের গুণাবলী। ১৯৪৯ সালে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। এভাবে সংগ্রামে জড়িয়ে তাঁর আইন পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার প্রতিবাদী। হাইস্কুলে পড়ার সময় স্কুলের ছাঁদ চুইয়ে পানি পড়তো। লেখাপড়া করা যেত না। তিনি সে সময়ে মন্ত্রী এ কে শেরে বাংলার পথ আটকে দাঁড়ান এবং ছাদ মেরামতের দাবি জানান। বলাবহুল্য তাঁর সে দাবি পূরণ হয়েছিল।

তিনি জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। ১৯৪৮ সালে যখন বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার আয়োজন চলছিল, তখন শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রদের নিয়ে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। ১১ মার্চ ভাষার দাবিতে হরতাল চলাকালে সচিবালয়ের পাশে পিকেটিং করার সময় শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয়। রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতির দাবিতে তিনি জেলখানায় বসেও অনশন করেন।

পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেফতার করে এবং পরে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। সারাটা জীবন তিনি অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। বিনিময়ে জীবনের বেশিরভাগ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। তিনি তাঁরই আত্মীয় বেগম ফজিলাতুন্নেসাকে বিবাহ করেন। তিনি স্বামীর পাশে থেকে নীরবে সাহস যুগিয়েছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। একদিকে তিনি যেমন সংসার, সন্তান আগলে রেখেছেন অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে গয়না বিক্রি করে দল চালিয়েছেন। তাঁর অবদান জাতির জনকের জীবনে কম নয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬২টি আসনে জয়লাভ করার পরেও সরকার গঠন করতে দেওয়া হয়নি। পাকিস্তান সরকারের ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরে তিনি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল সভায় কালজয়ী এক ভাষণ দেন। জনতার মহাসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন,

এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে উত্তাল জনতা। মাত্র ১৮ মিনিটের ভাষণে তিনি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এ অসহযোগ আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠে। অপরদিকে জেনারেল ইয়াহিয়া ও জুলফিকার আলী ভুট্টো আলোচনার নামে করতে থাকেন সময়ক্ষেপণ। ২৫ মার্চ ১৯৭১। পাকিস্তানি বাহিনী রাতের আঁধারে ঘুমন্ত মানুষের উপর শুরু করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ, যা অপরাশেন সার্চলাইট নামে পরিচিত। রাত ১২টা ২০ মিনিটে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে তাঁর বাসভবন থেকে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। এই যুদ্ধ রূপ নেয় মুক্তি সংগ্রামের। এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ছাত্র-জনতা। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রত্যক্ষ সমর্থনে পাশে এসে দাঁড়ায় মিত্রবাহিনী। দীর্ঘ নয় মাস চলে এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এই নয় মাসে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হন। দুই লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার তাঁকে বিনা শর্তে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। সেখান থেকে তিনি লন্ডনে গিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের সঙ্গে দেখা করেন। তারপর লন্ডন থেকে ঢাকা আসার পথে ভারতের দিল্লিতে যাত্রা বিরতি করেন। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি. ভি. গিরি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে স্বাগত জানান। ১০ জানুয়ারি ঢাকা পৌঁছলে তাঁকে অবিস্মরণীয় এক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। লাখো জনতার মাঝে তিনি চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না।
বঙ্গবন্ধুর অশ্রæ সজল চোখ মাতৃভূমিকে দেখে সিক্ত। তিনি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার মহাসমাবেশে আবেগময় এক ভাষণ দেন।

১২ জানুয়ারি তিনি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে তিনি খুব সুখে ছিলেন না। ধ্বংস স্তূপ থেকে দেশের অবকাঠামো বিনির্মাণে তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করেন।

১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বায়ত্বশাসন প্রদান করেন। যে সকল নারী নির্যাতিতা হয়েছেন তাঁদের তিনি ‘বীরাঙ্গনা’ সম্মাননা দিয়ে আত্মকর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করেন। তিনিই প্রথম পবিত্র ইসলাম ধর্মের প্রচার-প্রসারে বায়তুল মোকাররম মসজিদ সম্প্রসারণ, ইসলামি ফাউন্ডেশন, বিশ্ব ইজতেমার জন্য জায়গা দান, রেডিও টিভিতে কোরআন তেলাওয়াত শুরু করেন। কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি ঘোষণা দেন এবং কলকাতা থেকে তাঁকে স্বপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তাঁর চিকিৎসার জন্য বোর্ড গঠন করেন। অতি অল্প সময়ে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে স্বমহিমায় মাথা তুলে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের এই অগ্রগতি অনেকের ভালো লাগার কথা নয়। এরমধ্যে যারা স্বাধীনতা বিরোধী ছিল, তারা ভেতরে ভেতরে একজোট হয়ে ওঠার সুযোগ পায়। জাতির জনকের মহান হৃদয়ের সুযোগ নিয়ে পাকিস্তানপন্থী লোকজন ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে বিভিন্নভাবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভয়ঙ্কর কালোরাত। ইতিহাসের ঘৃণ্যতম একটি দিন। কিছু উশৃঙ্খল সেনাবাহিনীর হাতে মহান হৃদয় বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হন। তখন রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে মসজিদে মসজিদে ধ্বনিত হচ্ছিল ফজরের আযান।

অনাকাক্সিক্ষত শব্দ শুনে বঙ্গবন্ধু সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসছিলেন। তাঁর তর্জনী নির্ভীকভাবে উঠে এলো উপরে। কী চাই তোমাদের? সেই ভরাট নির্ভীক কণ্ঠ, সেই বজ্র নাদ। নির্লজ্জ খুনী ঘৃণিত পশুর চেয়েও অধম। ঘাতকের বুলেট ভেদ করল জাতির জনকের বিশাল বুক। সাদা কাপড় মুহূর্তেই রঞ্জিত হলো লাল রক্তে। রচিত হলো ইতিহাসের ঘৃণ্যতম হত্যাকাÐ। বুলেট থেকে রক্ষা পেল না বেগম মুজিব। যিনি স্বামীর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে ছিলেন চিরসাথী। তিনি বললেন, উনাকে যখন মেরেছ তবে দেরি কেন? আমাকেও শেষ করে দাও। বলার অপেক্ষা করলো না। পাষাণের হৃদয় এতটুকু কাঁপল না। আবার গর্জে উঠলো ঘাতকের অস্ত্র। সেখানেই লুটিয়ে পড়লেন তিনি। এরপর একে একে শেখ কামাল, শেখ জামাল, নববধু সুলতানা কামাল, রোজী জামাল ও অন্যান্যদের গুলি করে হত্যা করল ঘাতকেরা। সেদিনের নির্বাক নীলাকাশ যেন বেদনায় হয়ে গেল আরও ম্লান। রেহাই পেলেন না বঙ্গবন্ধুর ভাই, তাঁর স্ত্রী, গর্ভবতী মহিলা, শিশু কেউই।

জাতির এই কলংক কোনদিন মুছবার নয়। ছোট্ট রাসেল, যে কিনা সবসময় মায়ের আঁচল ধরে কতো অনুযোগ জানাত, সাইকেলে চড়ে ঘুরে বেড়াত সারা ঘরময়। সে লুকিয়েছিল দরজার এক কোণে। ঘাতকদের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলো, ‘আমাকে মারবে না তো তোমরা? আমাকে মায়ের কাছে যেতে দাও।’ না ঘাতকদের মন গলল না। সেই ছোট্ট রাসেলও ঘাতকদের নির্মমতা থেকে রেহাই পেল না। সেদিন দুইবোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন।

১৯৭৩ সালে আমি ছিলাম ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গড়াই নাচের শিল্পী হিসেবে রেসকোর্স ময়দানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীদের সাথে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু সেই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন। দেখেছিলাম উদার হৃদয় জাতির জনককে। প্রত্যেক শিল্পীকে তিনশত টাকা ও একটি করে কম্বল দিয়েছিলেন তিনি। ভালবাসতেন তিনি সবাইকে। এরপরে কতোবার কতো সাহিত্য সেমিনারে ঢাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। পরিদর্শন করেছি ৩২ নম্বরের সেই ঐতিহাসিক বাড়িটি। শোক বইয়েও লিখেছি। ঘুরে ঘুরে দেখেছি, সযতেœ সাজিয়ে রাখা মমতা মাখা প্রত্যেকটি জিনিস। আবেগ ধরে রাখতে পারিনি সেদিন। দু’চোখ ছাপিয়ে নেমেছিল অশ্রু।

বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ খুনীদের অনেকেই সাজা পেয়েছে। সংগ্রামী এই স্বজনহারা নারী প্রতিশোধের আগুন বুকে দায়িত্ব নিয়েছেন জাতির জনকের স্বপ্ন পূরণে সোনার বাংলাকে গড়ে তুলতে।

হে মহান, তুমি চির অম্লান। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু মানেই শেখ মুজিবুর রহমান। কবির ভাষায়,

যত দিন রবে পদ্মা মেঘনাগৌরী যমুনা বহমান
তত দিন রবে কীর্তি তোমারশেখ মুজিবুর রহমান।

শোভা ত্রিপুরা: তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলো ছড়ানোর পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চা আর লেখালেখি করেছেন, এখনো করে যাচ্ছেন। পাহাড়ি জীবনযাত্রা ছাড়াও শোভা ত্রিপুরা গল্প, কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনি লিখেন। ছোটকাল থেকে সাহিত্যচর্চাই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। ২০১৭ সালে তিনি বেগম রোকেয়া পদক লাভ করেন। উনার স্বামী মংছেন চীং মংছিন ২০১৬ সালে একুশে পদক লাভ করেছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + seven =

আরও পড়ুন