থানচিতে বিনামূল্যে ৩০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান


পাহাড়ের প্রান্তিক এলাকার কোমলমতি শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশে রঙের খেলা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হলো বিনামূল্যে ঔষধ ও চিকিৎসা ক্যাম্প।
সমন্বিত কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন প্রকল্প ‘শুনতে কি পাও’ ও ফিমেইল হাইজিন পার্টনার ঋতু অরগানাইজেশন-এর উদ্যোগে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) থানচি উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম ও রেমাক্রী বাজার প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
সারাদিন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত সেবা প্রত্যাশীরা দুই স্থানে ভিড় জমান। দিনব্যাপী চলা বিনামূল্যের এ ক্যাম্পে ১২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রায় তিনশত রোগীকে সেবা প্রদান করেন। ক্যাম্পে ট্রমা, অর্থোপেডিক্স, গাইনি, মেডিসিন, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি, নিউরো মেডিসিন, ডেন্টাল, শিশু রোগ ও বক্ষব্যাধি চিকিৎসার পাশাপাশি উন্নত মানের যন্ত্রপাতির মাধ্যমে চোখের চিকিৎসাও প্রদান করা হয়। এছাড়া বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা, রক্তচাপ নির্ণয়, রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।
সেবা নিতে আসা ভাননুসাম বম বলেন, “খবর শুনে আমরা পরিবারের সবাই ডাক্তার দেখাতে এসেছি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আমাদের দেখেছেন এবং ফ্রি ওষুধও দিয়েছেন। যদি এ ধরনের ক্যাম্প সব জায়গায় করা হয়, তাহলে আমাদের জেলার মানুষ আরও ভালো সেবা পাবে।”
শৈচিং মারমা বলেন, “কয়েকদিন ধরেই শুনছিলাম বড় বড় ডাক্তার আসবেন, আবার নাকি ফ্রি ওষুধও দেবেন। আজ এসে দেখি সত্যিই তাই। যেসব ডাক্তার রোগী দেখছেন, তাঁদের ভিজিট তো প্রাইভেট হাসপাতালে অনেক টাকা। এখানে ফ্রি সেবা পেয়েছি। সবাই খুব সন্তুষ্ট।”
চট্টগ্রামের ডাক্তার প্রিয়াংকা নওশীনের নেতৃত্বে ১০ জন চিকিৎসকের একটি টিম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে থানচিতে প্রায় ২০০ জন এবং রেমাক্রীতে ১০০ জন রোগীকে সেবা প্রদান করেন। তারা কফ-ঠান্ডা, জ্বর, ব্যথা, স্কিন সমস্যা ইত্যাদির চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন।
অন্যদিকে প্রান্তিক কোমলমতি শিশুদের জন্য আর্ট ক্যাম্প পরিচালনা করতে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে আহমেদ রেজাউল মোস্তফা তানিমের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি দল এসে ৩৫ জন শিশুকে নিয়ে দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্প পরিচালনা করেন। সেখানে শিশুদের ছবি আঁকার বিভিন্ন ধরণ, মাটি দিয়ে জিনিস তৈরি এবং রঙ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে সেবা প্রদান করেন—ডা. হালিমা, ডা. মৌ, ডা. চঞ্চল, ডা. রিমু, ডা. মীম, ডা. তৌফিক, ডা. ইভা, ডা. রিয়া ও ডা. মাঈশা।
ডা. প্রিয়াংকা নওশীন বলেন, “অনেক হতদরিদ্র মানুষ আছেন যারা তাদের প্রাপ্য চিকিৎসা সেবা ঠিকমতো পান না। মূলত তাদের জন্যই আমরা বিভিন্ন বিভাগ থেকে ১২ জন চিকিৎসক দিনব্যাপী সেবা দিয়েছি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর হতদরিদ্রদের তালিকা করে বিনামূল্যে অপারেশন ও সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”
ডা. মাঈশা বলেন, “হতদরিদ্র ও পাহাড়ি গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে আমরা নিয়মিত বিভিন্ন অঞ্চলে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করব। প্রান্তিক মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

















