‘দেওয়াই কুম’ যেনো আরেক দেবতাকুম

fec-image

ছোট বড় নানা আকৃতির পাথর ডিঙ্গিয়ে দীর্ঘাকার সুড়ঙ্গ। আর সুড়ঙ্গের দুই পাশে উঁচু পাহাড়ের মাঝ দিয়ে শীতল ও স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হতে থাকে। ভিতরে যেতে হয় বাঁশের তৈরি ভেলা নিয়ে। উচু দুই পাহাড়ের মাঝে হওয়ায় জায়গাটি খুব রোমাঞ্চকর। এমনই একটি পর্যটন স্পট সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে। বলছি পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রুমা উপজেলায় নতুন আবিষ্কৃত একটি পর্যটন স্পটের কথা।

প্রকৃতির অনিন্দ্য সৌন্দর্য্য ও নিরিবিলি পরিবেশে একটু মানসিক শান্তি খুঁজতে চলে যেতে পারেন দেওয়াই কুম-এ। ভ্রমণ পিয়াসীদের জন্য এডভেঞ্চারের মতো হতে পারে সম্ভাবনাময় এই পর্যটন স্পটটি। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই স্পট এখনো পরিচিতি লাভ করেনি। স্থানীয়রা ক্ষ্যখ্যংঝিরির আগা বা ‘দেওয়াই কুম’ নামে বলে থাকে। রুমা উপজেলা সদরে পৌছার প্রায় চার কিলোমিটার আগে ৩৬৬নং সেংগুম মৌজার আওতাধীন ৬নং ওয়ার্ডের বটতলীপাড়া এলাকায় এই পর্যটন স্পটের অবস্থান।

সরেজমিনে দেখা যায়, রুমা বটতলীপাড়া পার হয়ে ক্ষ্যেখ্যংঝিরি। এই পাথুরে ঝিরি হয়ে ২০-২৫ মিনিট হাটার পর ‘দেওয়াই কুম’। এখানে পা রাখতেই কানে বাজবে শোঁ শোঁ শব্দ। সবুজ পাতার আগা থেকে ঝিঝি পোকার এই আওয়াজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাখির কলকাকলি মিশে অন্যরকম এক আবহ সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয়, দুই পাহাড়ের উপরে থাকা গাছগাছালি ভেদ করে সূর্যের রশ্মি ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে।

দেওয়াই কুম এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বান্দরবানের অনেক জায়গা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও রোয়াংছড়ি উপজেলার দেবতাকুম উল্লেখযোগ্য একটি স্পট। আর রুমা’র বটতলীপাড়ার নিকটবর্তী নতুন আবিষ্কৃতি ‘দেওয়াই কুম’ যেন অন্য এক দেবতাকুমের মতোই আকর্ষণীয় স্থান।

সম্প্রতি বান্দরবান জেলা সদরের কয়েকজন সাংবাদিক এই পর্যটন স্পট আবিষ্কার করেছেন। তাদের মধ্যে একজন কেমু অং মারমা, একটি জাতীয় দৈনিকে জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। জন্মস্থান রুমা উপজেলায় হলেও বটতলীপাড়া ‘দেওয়াই কুম’ আগে কখনো যাওয়া হয়নি। সম্প্রতি কিছু সহকর্মী নিয়ে স্পটটি পরিদর্শন করেন। ফেরার পর তিনি পার্বত্যনিউজের প্রতিবেদককে জানান, বেশ কিছু পথ ট্র্যাকিং করে এখানে যেতে হয়। এরপর দেওয়াই কুমে পানির ওপর বাঁশের ভেলায় করে শীতল পরিবেশে যাওয়া বেশ রোমাঞ্চকর। পাহাড় প্রকৃতির সাথে এমন পরিবেশ নিসেন্দহে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের চোখ জুড়াবে।

দেওয়াই কুম ঘুরে আসা সাংবাদিক মংসানু মারমা ও স্থানীয় বাসিন্দা মংবং মারমার জানান, ইতোমধ্যে এই স্পট যারা ভিজিট করেছেন তাদের সবাই বলেছেন, যোগাযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হলে দেবতাকুমের মতোই এখানে পর্যটক আসবে।

পর্যটন উন্নয়ন প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হলে রুমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লাচিং মারমা বলেন, প্রাকৃতিক দিক থেকে এখানকার পরিবেশ খুব সুন্দর। যে স্পটটির কথা বলা হচ্ছে এটি বন বিভাগের ২ হাজার একর দখলীয় জমির মধ্যে পড়েছে। ফলে ওখানে উন্নয়ন করা দীর্ঘ প্রসেসিং ব্যাপার। তারপও পর্যটন উন্নয়নের বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফোরামে উত্থাপন করার কথা জানান।

কিভাবে যাবেন: দেশের যেকোন স্থান থেকে বান্দরবানে পৌছার পর প্রাইভেট কিংবা ভাড়ার যেকোন গাড়ি নিয়ে রুমা উপজেলার উদ্দেশে আসতে পারবেন। রুমা উপজেলা সদরে পৌছার ৪কি.মি আগে রাস্তার ডান পাশের বটতলীপাড়ায় নামতে হবে। মোটরসাইকেল কিংবা জীপ গাড়ি হলে সরাসরি ক্ষ্যখ্যংঝিরির কাছে যেতে পারবেন। এরপর ঝিরি হয়ে ২০-২৫ মিনিট হাটার পর দেখা মিলবে দেওয়ায় কুম। এই ক্ষেত্রে স্থানীয় কোন পর্যটক গাইড সঙ্গে রাখতে পারেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: দেওয়াই কুম, দেবতাকুম
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen − thirteen =

আরও পড়ুন