নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা অব্যাহত


টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধসের ঝুঁকির মধ্যেও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার, ১০ জুলাই পর্যন্ত উপজেলার ঘুমধুম, সোনাইছড়ি, দোছড়ি, বাইশারী ও নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাহাড়ধসে ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এবং পানিবন্দী মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয় জরুরি ত্রাণসামগ্রী।
এদিকে, ঘুমধুম ও সদর ইউনিয়নের পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িতে গিয়ে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হাসান ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এ সময় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবার ও ত্রাণসামগ্রী সহায়তা প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতেও প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪০ প্যাকেট নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বাইশারী ইউনিয়নে ৭০ জনকে চাল বিতরণের পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ২ টন করে মোট ১০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদগুলো পর্যায়ক্রমে খাদ্য অফিস থেকে চাল গ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণ করবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
পরিদর্শন ও সহায়তা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসমত জাহান ইতু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হাসান জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টির কারণে গতকাল বাইশারীর মুইঅং পাড়ায় ধসে পড়া ব্রিজটি বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম কোম্পানিকে পরিদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একটি কাঠের সেতু নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

















